প্রকাশিত:
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

বুধবার সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "সরকার এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছাতে চায় এবং সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং দ্রুতই অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ করা হবে।"
তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ব বাণিজ্যে বর্তমানে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে পরিবর্তনের ফলে বৈশ্বিক বাজার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে একটি দরিদ্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভুল করার সুযোগ সীমিত। তাই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই সময় বাড়ানো অপরিহার্য।
দেশের রপ্তানি খাতের নাজুক অবস্থা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, "আমাদের রপ্তানি কাঠামো এখনো অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত। আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে একটি মাত্র পণ্য (তৈরি পোশাক) থেকে। এই নির্ভরতা কমাতে নতুন পণ্য যুক্ত করা এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণই আমাদের অগ্রাধিকার হবে।"
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, গত কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগ স্থবির থাকায় অর্থনীতি চাপে রয়েছে। প্রতি বছর ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ না বাড়ালে কর্মসংস্থানে বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
রমজানের বাজার নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, "নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ সরকারের হাতে রয়েছে এবং পাইপলাইনেও সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।"
সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমি শুধু মুখে বক্তব্য দিতে চাই না, কাজের মাধ্যমে ফল দেখাতে চাই। রমজানের শুরুতে এককালীন চাহিদা বাড়ার কারণে খুচরা বাজারে সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে, তবে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে।"
রমজান সামাল দেওয়াকে নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে স্বীকার করে তিনি বলেন, "মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে সফল হতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। এটি কোনো ব্যক্তির বিষয় নয়, দেশের স্বার্থ।" এ সময় তিনি সরকারের ভুল ধরিয়ে দিতে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশকে এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।