প্রকাশিত:
গতকাল

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে দীর্ঘদিনের ‘সিন্ডিকেট’ সংস্কৃতির মূলে আঘাত এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের ফলে নিত্যপণ্যের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলাজাতীয় পণ্যের দাম গত কয়েক মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
বাংলাদেশে নিত্য প্রয়োজনীয় অনেক কৃষি পণ্যের উৎপাদন হলেও, বাজারে দামের চিত্র ছিল সব সময় ঊর্ধ্বমুখী। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের নিত্য প্রয়োজনীয় কৃষি পণ্যের বাজারদরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের আগে আলুর কেজি প্রতি খুচরা দাম ছিল ৬০ টাকা। এ বছরে সবজিটির দাম ৫৮ শতাংশ কমে হয়েছে ২৫ টাকা।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর ও কচুক্ষেতসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রান্নার অন্যতম প্রধান উপকরণ পেঁয়াজ ও রসুনের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালে আসছে।
পেঁয়াজ: অভ্যুত্থানের আগে খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ১২০-১৩০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। বর্তমানে তা কমে ৮৫-৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে ৭০-৭৫ টাকার মধ্যে।
রসুন: মানভেদে রসুনের দাম কেজিতে ৩০-৪০ টাকা কমেছে। গত মাসে যে রসুন ২৪০-২৫০ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন পাওয়া যাচ্ছে ২০০-২১০ টাকার মধ্যে।
আদা: আমদানি সহজ হওয়ায় আদার দামও কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বর্তমানে বাজারে ভালো মানের আদা ২৩০-২৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
কাঁচামরিচ: বন্যার পরবর্তী সময়ে কাঁচামরিচের দাম ৪০০ টাকা ছাড়িয়ে গেলেও আমদানির অনুমতি দেওয়ায় তা এখন ২০০-২২০ টাকায় নেমে এসেছে।
উপরোক্ত পণ্য ছাড়াও বাজারে উল্লেখযোগ্য দাম কমেছে মাছ, মাংস, ডিম, সবজিরও।
উপরে উল্লিখিত তথ্যগুলো কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের খুচরা বাজারদরের হালনাগাদ তথ্য ও ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের ৮ তারিখের বাজারদরের হালনাগাদ তথ্য থেকে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাতিরপুল কাঁচা বাজারে বাসস-এর সঙ্গে কথা বলেন অ্যাডভোকেট সোহেল রহমান।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় কৃষি পণ্যের দাম অনেক সময় সাধারণ নাগরিকদের নাগালের বাইরে চলে যায়।
সোহেল রহমান আরও বলেন, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট নিয়ে বিগত সময়ে কথা হলেও, সরকারের পক্ষ থেকে আমরা কোন উদ্যেগ দেখিনি। গণঅভ্যুত্থানের পর স্বল্প পরিসরে হলেও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সরকার কমাতে পেরেছে।
কারওয়ান বাজারের একজন পাইকারি বিক্রেতা জানান, "আগে বড় বড় আড়তদাররা দাম নির্ধারণ করে দিত। এখন আমদানির প্রবাহ ভালো থাকায় এবং তদারকি বাড়ায় আমরা কম দামে পণ্য পাচ্ছি, তাই কমে বিক্রি করছি।" তবে সাধারণ ক্রেতারা জানিয়েছেন, পেঁয়াজ-রসুনের দাম কমলেও চাল ও সয়াবিন তেলের দাম এখনো বাড়তি। তারা মনে করেন, সব পণ্যের ওপর নজরদারি বাড়ালে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করছে যে, সরবরাহ ব্যবস্থা আরও নিরবচ্ছিন্ন হলে এবং আসন্ন শীতকালীন সবজি বাজারে পুরোপুরি এলে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও কমবে। রমজানকে সামনে রেখে বড় বড় আমদানিকারকদের সাথে নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে যাতে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে।