প্রকাশিত:
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ইউসিবির ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, ‘আয়মা’ সেবার আওতায় একজন নারী গ্রাহক গাড়ি কেনার জন্য সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা অথবা গাড়ির মূল্যের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। ৫ বছর মেয়াদী এই ঋণ পেতে বেতনভুক্ত কর্মকর্তাদের মাসিক আয় অন্তত ৫০ হাজার টাকা হতে হবে। চিকিৎসক ও স্বনিয়োজিত নারীদের ক্ষেত্রে আয়ের সীমা ৬০ হাজার এবং ব্যবসায়ীদের জন্য ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গৃহঋণের ক্ষেত্রে নারী গ্রাহক ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা (এনআরবি) সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন। এই ঋণ পরিশোধের জন্য ২৫ বছর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় পাওয়া যাবে। এছাড়া বিয়ে, ভ্রমণ বা চিকিৎসার মতো ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘পারসোনাল লোন’ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যার জন্য কোনো জামানতের প্রয়োজন হবে না।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ইউসিবি দিচ্ছে বিশেষ ছাড়। ব্যবসা সম্প্রসারণ বা কৃষি উৎপাদনের জন্য নারী উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। এর মধ্যে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ মিলবে কোনো জামানত ছাড়াই।
পুনঃঅর্থায়ন সুবিধায় এই ঋণের সুদহার মাত্র ৫ শতাংশ। এছাড়া ঋণ পরিশোধের রেকর্ড ভালো হলে গ্রাহককে ১ শতাংশ ক্যাশব্যাক প্রণোদনাও দেওয়া হয়। ওভারড্রাফট সুবিধার জন্য রয়েছে ‘আয়মা জ্যোতি’, যার মাধ্যমে এক বছর মেয়াদী নবায়নযোগ্য ঋণ পাওয়া যাবে।
‘আয়মা’ গ্রাহকদের জন্য মাস্টারকার্ড ও ভিসা ক্ল্যাসিক এবং ভিসা সিগনেচার—এই তিন ধরনের কার্ডের সুবিধা রয়েছে। কার্ডধারীরা ১৮টি জটিল রোগের জন্য ১ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বিমা সুবিধা পাবেন। এছাড়া নির্দিষ্ট মার্চেন্টে শূন্য শতাংশ সুদে কিস্তি সুবিধা এবং বিমানবন্দর লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগও থাকছে। ভিসা সিগনেচার কার্ডধারীরা সুপার স্টোর ও ডাইনিংয়ে ১০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক সুবিধা পাবেন।
তৃণমূল পর্যায়ের নারী উদ্যোক্তা ও কৃষকদের ব্যাংকিং সেবায় আনতে ইউসিবি চালু করেছে বিশেষ আমানত সেবা।
স্বনির্ভর: নারী পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ চলতি হিসাব।
স্বাবলম্বী ইজি অ্যাকাউন্ট: মাত্র ১০ টাকা জমা দিয়ে এই হিসাব খোলা যাবে। এমনকি ট্রেড লাইসেন্স নেই এমন ক্ষুদ্র নারী ব্যবসায়ীরাও এই হিসাব খোলার সুযোগ পাবেন।
আয়মা প্রত্যয়: সিএমএসএমই খাতের নারীদের জন্য ৫ বা ১০ বছর মেয়াদী মাসিক সঞ্চয় প্রকল্প।
ইউসিবি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘আয়মা’ শুধু একটি ব্যাংকিং সেবা নয়, এটি নারীদের আত্মমর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার একটি নতুন মাধ্যম। সঠিক বিনিয়োগ এবং সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে দেশের নারী উদ্যোক্তাদের মূলধারার অর্থনীতিতে আরও শক্তিশালী করাই এই সেবার মূল লক্ষ্য।