প্রকাশিত:
গতকাল

গত বছর ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে নগদে ১ হাজার ২০৩ কোটি টাকা আদায় করেছে সোনালী ব্যাংক। এর মধ্যে ব্যাংকটির বহুল আলোচিত খেলাপি প্রতিষ্ঠান হলমার্ক গ্রুপ থেকে আদায় করা হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। হলমার্ক গ্রুপ থেকে খেলাপির টাকা আদায়ে যন্ত্রপাতি ও সম্পদ নিলামের মাধ্যমে বিক্রির চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সোনালী ব্যাংক। এমন নানা উদ্যোগের ফলে বিদায়ী বছরে ৮ হাজার ১৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পরিচালন মুনাফা হয়েছে সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকটি। তাতে চূড়ান্ত হিসাবে বছর শেষে দেড় হাজার কোটি টাকা প্রকৃত মুনাফা হবে বলে আশা করছে ব্যাংকটি।
আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শওকত আলী খান।
২০২৫ সালের বার্ষিক হিসাব বিবরণী অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংক গত এক বছরে মোট ৮,০১৭ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করেছে। আগের বছরের তুলনায় যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি। ব্যাংকের এই অভাবনীয় প্রবৃদ্ধির পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে রেকর্ড পরিমাণ খেলাপি ঋণ আদায়।
২০১২ সালের পর দেশের আর্থিক খাতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা ছিল হলমার্ক ঋণ কেলেঙ্কারি। দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও কৌশলগত আলোচনার মাধ্যমে বিদায়ী বছরে হলমার্ক থেকে ৩০০ কোটি টাকা নগদ আদায় করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
সোনালী ব্যাংকের এমডি বলেন, সরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সোনালী ব্যাংকের এখনো উল্লেখযোগ্য পাওনা রয়েছে। বিশেষ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে এককভাবে ঋণপত্র কার্যক্রম পরিচালনার বিপরীতে ব্যাংকের প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মাশুল এখনো বকেয়া রয়েছে। এই অর্থ আদায় হলে ব্যাংকের মূলধন আরও শক্তিশালী হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা ঋণগ্রহীতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। খেলাপি অর্থ আদায়ে আইনিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নীতিসহায়তার আওতায় কার্যক্রমে না থাকা প্রতিষ্ঠানকে সচল করতে ঋণ পুনঃ তফসিল করা হচ্ছে।’
ঋণ কেন্দ্রীভূত হওয়ার বিষয়ে ব্যাংকটির এমডি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী কিছু নির্দিষ্ট শাখায় অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে পাঁচটি শাখায় ৩৭ শতাংশ ঋণ কেন্দ্রীভূত, যা ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হচ্ছে। বড় ঋণ অন্য শাখাগুলোয় স্থানান্তরের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানোরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিনের আদায়হীন ঋণের কারণে ব্যাংকটি যে মূলধন ঘাটতিতে ভুগছিল, এই রেকর্ড মুনাফা ও আদায়ের ফলে সেই সংকট কাটিয়ে ওঠা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। আমানতকারীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং তারল্য সংকট নিরসনে এই অর্জন ব্যাংকিং খাতে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।