প্রকাশিত:
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ নির্দিষ্ট কিছু কৃষিপণ্য আমদানিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে:
গম: আগামী ৫ বছর প্রতিবছর অন্তত ৭ লাখ টন।
সয়াবিন ও সয়াজাত পণ্য: বছরে অন্তত ১২৫ কোটি ডলার মূল্যের বা ২৬ লাখ টন।
অন্যান্য পণ্য: এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে রয়েছে তুলা ও ভুট্টা।
বাংলাদেশ বর্তমানে বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য আমদানি করে। তবে দূরত্ব ও পরিবহন খরচের কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির পরিমাণ আগে কম ছিল। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য আমদানি হয়েছে ৯২ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের (২৭ কোটি ডলার) তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। এর মধ্যে সয়াবিন বীজের পরিমাণই ছিল ৪৭ কোটি ডলার।
চলতি অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানিতে শীর্ষ তালিকায় রয়েছে:
মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (MGI): ২৬ কোটি ডলারের সয়াবিন বীজ (মোট আমদানির ২৮%)।
খাদ্য অধিদপ্তর: প্রায় ১১.৮৪ কোটি ডলারের গম।
সায়হাম গ্রুপ: ৮.৫ কোটি ডলারের তুলা।
ডেলটা এগ্রোফুড ও সিটি গ্রুপ: সয়াবিন বীজ আমদানিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে।
চুক্তি অনুযায়ী বিশাল এই আমদানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে:
নীতিগত সুরক্ষা: মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, বছরে ২৬ লাখ টন সয়াবিন বীজ আমদানির লক্ষ্য পূরণ করতে হলে স্থানীয় মাড়াই শিল্পকে সুরক্ষা দিতে হবে। সয়াককের মতো উপজাত পণ্যে শুল্ক আরোপ করলে কাঁচামাল আমদানি বাড়বে।
রাজস্ব ও প্রতিযোগিতা: সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, এটি বাজারের স্বাভাবিক প্রতিযোগিতাকে কিছুটা বাধাগ্রস্ত করতে পারে। সস্তা উৎসের বদলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি দামে পণ্য কিনলে সরকারকে ভর্তুকি বা বিশেষ সুবিধা দিতে হতে পারে, যা রাজস্বে চাপ তৈরি করবে।
অন্যদিকে, বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ীরা আশাবাদী যে মার্কিন তুলা ব্যবহার করে পোশাক রপ্তানিতে শুল্ক ছাড়ের সুবিধা পাওয়ায় তুলা আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।