প্রকাশিত:
২ জানুয়ারী, ২০২৬

সদ্য বিদায়ী ডিসেম্বর মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৩২২ কোটি মার্কিন ডলার। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলার প্রবাসী আয়ের রেকর্ড ছিল গত বছরের মার্চে।এরপর গত ডিসেম্বরে একক মাস হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড হয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডিসেম্বরে প্রবাসী আয় আসা বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের পুরো বছরে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার প্রায় সমান আয় এসেছে এক বছরে।
রেকর্ড গড়া রেমিট্যান্স প্রবাহ বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে প্রবাসীরা যে পরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন, তা দেশের বর্তমান কার্যকর রিজার্ভের (Net Reserve) সমপরিমাণ বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ছাড়িয়ে গেছে। হুন্ডি প্রতিরোধে কড়াকড়ি, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের আকর্ষণীয় রেট এবং সরকারের দেওয়া আড়াই শতাংশ নগদ প্রণোদনার কারণে বৈধ পথে টাকা পাঠানোর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞের অভিমত অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্সের এই উল্লম্ফন আমাদের জন্য বড় সুযোগ। তবে শুধু রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর না করে রপ্তানি আয় বাড়ানোর দিকেও নজর দিতে হবে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় যদি দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর হার আরও বাড়াতে পারে, তবে আগামীতে রেমিট্যান্সের পরিমাণ রিজার্ভকে ছাড়িয়ে বহুদূর চলে যাবে।
প্রবাসীরা যে দেশের অর্থনীতির আসল 'হিরো', তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। সংকটের সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো এই ডলারের প্রবাহই দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে। এখন সময় এসেছে প্রবাসী কর্মীদের সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার এবং তাদের প্রেরিত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার।