প্রকাশিত:
গতকাল

এর মধ্যে সর্বাধিক রেমিট্যান্স এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব থেকে। পাশাপাশি শীর্ষ ১০ রেমিট্যান্স প্রেরণকারী দেশের তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশ।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
শীর্ষ তালিকার অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (৩৮ কোটি ৮০ লাখ ৪০ হাজার ডলার), মালয়েশিয়া (২৮ কোটি ২ লাখ ১০ হাজার ডলার), যুক্তরাষ্ট্র (২৭ কোটি ৪৯ লাখ ৮০ হাজার) এবং ইতালি (১৮ কোটি ৮৩ লাখ ৫০ হাজার)।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তিনটি প্রধান কারণে জানুয়ারিতে রেমিট্যান্সের এই চমক দেখা গেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রবাসীরা তাদের পরিবারের কাছে অতিরিক্ত অর্থ পাঠিয়েছেন। ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার আকর্ষণীয় হওয়ায় এবং সরকার ঘোষিত ২.৫% থেকে ৫% পর্যন্ত প্রণোদনার কারণে হুন্ডি ছেড়ে বৈধ পথে টাকা পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। ২০২৫ সালে রেকর্ড সংখ্যক কর্মী বিদেশ পাড়ি দেওয়ায় তার সুফল এখন পাওয়া যাচ্ছে।
এই বিশাল রেমিট্যান্স প্রবাহের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে গ্রস রিজার্ভ বেড়ে ৩২ বিলিয়ন (৩,২০০ কোটি) ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা আমদানি ব্যয় মেটাতে সরকারকে স্বস্তি দেবে।
এর আগে গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, যা ছিল দেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ও চলতি অর্থবছরের কোনো এক মাসে আসা সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। গত নভেম্বরে দেশে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরজুড়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।
অর্থনীতিবিদের মতে রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ ধরে রাখতে পারলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ডলারের সংকট মোকাবিলা করা সহজ হবে। তবে বৈধ পথে টাকা পাঠানোর এই ধারা অব্যাহত রাখতে প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়াতে হবে