প্রকাশিত:
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রমজান উপলক্ষে চিনি, ভোজ্যতেল, ছোলা ও ডালের মতো ভোগ্যপণ্য গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি আমদানি করা হয়েছে। সরকারি হিসেবে ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা ২৫ লাখ টন, যার মধ্যে রমজানে প্রয়োজন ৩ লাখ টন। বর্তমানে স্থানীয় উৎপাদন ও আমদানিকৃত পাইপলাইন মিলিয়ে পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান।
তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। রাজধানীর জোয়ারসাহারা ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত দুই দিনের ব্যবধানে বেগুন, কাঁচা মরিচ ও শসার দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি অস্বস্তি লেবুর বাজারে; এক হালি লেবুর দাম মানভেদে ১০০ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে।
নিম্ন আয়ের মানুষের স্বস্তি দিতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) তাদের ট্রাক সেলের সংখ্যা দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শহরাঞ্চলে স্বল্পমূল্যে পণ্য পৌঁছে দিতে এই কার্যক্রম জোরদার করা হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, টিসিবির ট্রাক সেল সব এলাকায় না পৌঁছালে প্রান্তিক পর্যায়ের ভোক্তারা সুফল পাবেন না।
কৃষিপণ্যের দামে অস্বাভাবিক পার্থক্যের বিষয়টি এখন বড় উদ্বেগের কারণ। কৃষক পর্যায়ে ৪০ টাকা কেজির বেগুন খুচরা বাজারে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হওয়াকে সরবরাহ চেইনের অস্বচ্ছতা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা। নতুন সরকার এই সরবরাহ চেইন সংস্কারে কতটা কঠোর হতে পারবে, তার ওপরই নির্ভর করছে সাধারণ মানুষের আস্থা।
এক নজরে বর্তমান বাজার দর (প্রতি কেজি/ডজন):
ছোলা: ১০০-১১০ টাকা
সয়াবিন তেল: ১৯৫ টাকা (লিটার)
মসুর ডাল (চিকন): ১৭০-১৮০ টাকা
দেশি পেঁয়াজ: ৬০-৭০ টাকা
ব্রয়লার মুরগি: ১৯০-২০০ টাকা
ডিম: ১১০-১২০ টাকা (ডজন)
কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, “রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক দক্ষতার সমন্বয় ঘটাতে পারলে রমজানে বাজারে স্বস্তি ফেরানো সম্ভব। তবে শুধু অভিযান নয়, সরবরাহ চেইনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।”
ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসেনের মতে, আগের সরকার বাজার কারসাজিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি। নতুন সরকার যদি শুরুতেই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করতে পারে, তবেই বাজারে ইতিবাচক ফল মিলবে।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে রমজানের আমেজ শুরু হওয়ায় এটি তাদের জন্য একটি তাৎক্ষণিক পরীক্ষা। পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও রমজানের প্রথম সপ্তাহে বাজার কোন দিকে যায়, তার ওপরই নির্ভর করছে সরকারের প্রাথমিক সাফল্যের মূল্যায়ন।