প্রকাশিত:
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

বীমা খাতের প্রতি সাধারণ মানুষের অনীহার পেছনে বেশ কিছু মৌলিক কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা:
দাবি নিষ্পত্তিতে জটিলতা: নিয়মিত প্রিমিয়াম পরিশোধের পরও গ্রাহকরা সময়মতো দাবির টাকা পাচ্ছেন না, যা পুরো খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অস্বচ্ছ পলিসি: বিভ্রান্তিকর পলিসি এবং তথ্যের লুকোছাপা গ্রাহকদের মধ্যে ভীতি তৈরি করছে।
দুর্বল করপোরেট গভর্ন্যান্স: কোম্পানিগুলোর অভ্যন্তরীণ অনিয়ম ও কোটি টাকার দুর্নীতি এই খাতকে আধুনিক আর্থিক ব্যবস্থার অংশ হতে বাধা দিচ্ছে।
দক্ষ জনবলের অভাব: শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক এবং পেশাদার মানবসম্পদের ঘাটতি এই খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
ড. এম আসলাম আলম (চেয়ারম্যান, আইডিআরএ) জানান, দক্ষ জনবল তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আইডিআরএ’র ক্ষমতা সীমিত হওয়ায় দুর্নীতি ও প্রতারণা প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা ও টেকসই বীমা ব্যবস্থা গড়ে তোলা বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য এখন সময়ের দাবি।
সাকিফ শামীম (অর্থনীতিবিদ ও ডিএমডি, ল্যাবএইড গ্রুপ) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বীমা আছে, কিন্তু বিশ্বাস নেই।" তার মতে, স্বাস্থ্য বীমা, সিলভার ইকোনমি ও পেনশন বীমা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি পলিসি ইস্যু থেকে দাবি নিষ্পত্তি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপকে প্রযুক্তিনির্ভর ও সময়সীমাবদ্ধ করার ওপর জোর দেন।
মামুন রশীদ (ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক)-র মতে, বীমা খাতের আস্থাহীনতার মূল শুরু হয় ক্লেইম বা দাবি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা থেকে। বর্তমান পণ্যগুলো দেশের প্রকৃত চাহিদা—বিশেষ করে স্বাস্থ্য, কৃষি ও পেনশন খাতের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে পারছে না।
বীমা খাতকে আধুনিক করতে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছেন:
১. ডিজিটাল রূপান্তর: ই-কেওয়াইসি (e-KYC) এবং কেন্দ্রীয় ডেটাবেস বাধ্যতামূলক করা।
২. স্বচ্ছ ক্লেইম সিস্টেম: ডিজিটাল পদ্ধতিতে দ্রুত দাবি নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা।
৩. নীতি সংস্কার: যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষমতা বৃদ্ধি।
৪. আন্ডাররাইটিং: আধুনিক ঝুঁকিভিত্তিক আন্ডাররাইটিং ব্যবস্থা চালু করা।
বীমা খাতকে অর্থনীতির মূল স্রোতে ফেরাতে হলে শুধুমাত্র আইন থাকলেই হবে না, বরং প্রযুক্তি ও স্বচ্ছতার সমন্বয়ে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে হবে।