প্রকাশিত:
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

গত রবিবার ব্যাংকগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নতুন নির্দেশনার কথা জানায়। চিঠির মূল বিষয়গুলো হলো:
পুনঃ তফসিলের জন্য প্রয়োজনীয় ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টের অর্ধেক (১ শতাংশ) আবেদনের সময় জমা দিতে হবে। বাকি ১ শতাংশ পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধ করা যাবে।
পুনঃ তফসিল প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে কোনো যৌক্তিক কারণ থাকলে ব্যাংকগুলো আগের নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত তিন মাস সময় বাড়াতে পারবে।
ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় সুদ মওকুফের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া বা ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় সচল করতে এই বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।
পুনঃ তফসিলকৃত ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১০ বছর। ঋণ নিয়মিত করার পর শুরুতে দুই বছর কিস্তি পরিশোধে বিরতি (Grace Period) পাওয়া যাবে। যারা এককালীন ঋণ পরিশোধ করতে চান, তাদের জন্য আবেদনের ফি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে পরিশোধের জন্য এক বছর সময় পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৪১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে একটি বিশাল অংশ এখন খেলাপি ঋণের কবলে।
শীর্ষ ৫ খেলাপি ব্যাংক (শতাংশের হিসেবে):
| ব্যাংকের নাম | খেলাপি ঋণের হার |
| ইউনিয়ন ব্যাংক | ৯৬.৬৪% |
| ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক | ৯৬.২০% |
| গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক | ৯৫.৭০% |
| পদ্মা ব্যাংক | ৯৪.১৭% |
| আইসিবি ইসলামী ব্যাংক | ৯১.৩৮% |
ব্যাংকারদের মতে, গত সাড়ে ১৫ বছরে ব্যাংক খাতে নজিরবিহীন অনিয়ম, জালিয়াতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই পরিস্থিতির এমন অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো, নাসা গ্রুপ এবং হল-মার্কের মতো বড় গ্রুপগুলোর ঋণ কেলেঙ্কারি এবং বেসিক ব্যাংক ও ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর বিপর্যয় খেলাপি ঋণের পাহাড় তৈরি করেছে। বর্তমানে মোট ঋণের প্রায় ৩৬.৩ শতাংশই খেলাপি হয়ে পড়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, এই ছাড়ের ফলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমবে এবং ব্যবসায়ীরা তাদের স্থবির হয়ে পড়া ব্যবসা পুনরায় শুরু করার সুযোগ পাবেন, যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট কাটাতে সাহায্য করবে।