প্রকাশিত:
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, আসন্ন রমজানে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মুনাফা লুটতে একটি অসাধু চক্র বিপুল পরিমাণ খেজুর মজুত করছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খাগরিয়া এলাকার ওই হিমাগারে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোন্দকার মাহমুদুল হাসান নেতৃত্ব দেন। তল্লাশিকালে হিমাগারটিতে প্রায় এক হাজার টন খেজুরের মজুত পাওয়া যায়।
অবৈধ মজুতের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় হিমাগারের ম্যানেজার মো. রমজান আলীকে তাৎক্ষণিকভাবে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে, আগামী সাত দিনের মধ্যে মজুতকৃত সব খেজুর বাজারজাত করার কঠোর নির্দেশ প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, "অভিযানকালে আমরা প্রায় এক হাজার টন খেজুর মজুত অবস্থায় দেখতে পাই। অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে রমজানে বাজার অস্থির করতে না পারে, সেজন্য এই জরিমানা করা হয়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে মজুতকৃত খেজুরের প্রকৃত মালিকদের তালিকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।"
জরিমানাপ্রাপ্ত ম্যানেজার মো. রমজান আলী দাবি করেন, হিমাগারটিতে বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা এক মাস আগে থেকেই খেজুর রাখা শুরু করেছেন। তিনি জানান, "ইতোমধ্যে অনেক খেজুর নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ হাজার বস্তা খেজুর আনা হয়েছিল, যার মধ্যে ১৮ হাজার বস্তা সরবরাহ করা হয়েছে। বর্তমানে ৬ হাজার বস্তা মজুত আছে, যা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ব্যবসায়ীরা নিয়ে যাবেন।"
সচেতন মহলের মতে, আড়তদার ও হিমাগার মালিকদের এমন অসাধু মজুতদারির কারণে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়। ফলে সাধারণ জনগণকে উচ্চমূল্যে পণ্য কিনতে হয় এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মজুতদারি রুখতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।