প্রকাশিত:
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, স্ট্রবেরি চাষে এক নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে:
২০২২-২৩ অর্থবছর: উৎপাদন ছিল ২১০ টন (চাষ হয়েছিল মাত্র ২২ একরে)।
২০২৪-২৫ অর্থবছর: উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩৫ টনে (চাষের জমি বেড়ে হয়েছে ১৩০ একর)।
কৃষকরা জানিয়েছেন, এক বিঘা জমিতে স্ট্রবেরি চাষে খরচ হয় প্রায় ১.৫ থেকে ২ লাখ টাকা, কিন্তু বাজারজাত করে অনায়াসেই ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। অর্থাৎ খরচের তুলনায় লাভ দ্বিগুণেরও বেশি।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি স্ট্রবেরি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাসখানেক আগেও এর দাম ছিল ২,৫০০ টাকার কাছাকাছি।
বাজারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও বগুড়া থেকে আসা স্ট্রবেরির আধিপত্য থাকলেও ভারতীয় স্ট্রবেরি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩,০০০ টাকা কেজি দরে।
উজ্জ্বল লাল রঙের কারণে শিশুদের কাছে এটি দারুণ জনপ্রিয়। অনেক অভিভাবক জানান, খেলার ছলে পুষ্টিকর কিছু খাওয়ানোর জন্য স্ট্রবেরি তাদের প্রথম পছন্দ।
বাংলাদেশে স্ট্রবেরির বাণিজ্যিক পথচলা শুরু হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. মনজুর হোসেনের হাত ধরে। ১৯৯৬ সালে জাপান থেকে ফিরে তিনি গবেষণা শুরু করেন এবং ২০০৭ সালে নিজস্ব জাত উদ্ভাবন করেন। বর্তমানে দেশে রাবি-১, ২ ও ৩ জাতের চাষ হচ্ছে, যার মধ্যে রাবি-২ সবচেয়ে জনপ্রিয়। সম্প্রতি তিনি ‘ফ্রিডম-২৪’ নামে একটি নতুন সুপার ভ্যারাইটি উদ্ভাবন করেছেন।
শীর্ষ উৎপাদনকারী এলাকা:
১. চাঁপাইনবাবগঞ্জ (সবচেয়ে বেশি চাষ হয়)
২. জয়পুরহাট
৩. চুয়াডাঙ্গা
৪. রাজশাহী ও নওগাঁ।
কৃষিবিদদের মতে, স্ট্রবেরি অত্যন্ত পচনশীল। সঠিক তাপমাত্রা ও হিমাগারের অভাবে এটি ২-৩ দিনের বেশি তাজা রাখা যায় না।
মো. মেহেদী মাসুদ (সাবেক পরিচালক, বছরব্যাপী ফল উৎপাদন প্রকল্প) বলেন, "আমাদের দেশে কোল্ড চেইন না থাকায় বাজারজাত করা কঠিন। তবে আইসক্রিম বা জুস তৈরিতে বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়ানো গেলে এর সম্ভাবনা বিশাল।"
কৃষকদের অভিযোগ, ফলটির ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও সরকারি পর্যায়ে চাষ সম্প্রসারণে বড় ধরনের কোনো উদ্যোগ এখনো চোখে পড়ছে না। কৃষি প্রক্রিয়াজাত কোম্পানিগুলো এগিয়ে এলে স্ট্রবেরি দেশের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।