প্রকাশিত:
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

মালাবার হিলের শিখ পরিবারের মেয়ে নিশার অভিনয়ে আসার গল্পটা অনেকটা সিনেমার মতোই। কলেজের ক্যানটিনে বসে থাকাকালীন বিখ্যাত বিজ্ঞাপন-নির্মাতা অ্যালিক পদমসির নজরে পড়েন তিনি। বাবার কড়া শাসন আর পড়াশোনার শর্ত মেনে মাসে মাত্র একটি বিজ্ঞাপনের অনুমতি পান তিনি। এই বাছাই করা কাজই তাঁকে দর্শকদের কাছে অনন্য করে তোলে।
নিশার ক্যারিয়ারের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট ছিল এন চন্দ্রার সিনেমা ‘অঙ্কুশ’। তবে এই ছবিতে অভিনয়ের শুরুতে সহ-অভিনেতা নানা পাটেকরের কাছ থেকে খুব একটা উষ্ণ অভ্যর্থনা পাননি তিনি। নিশা জানান, "নানা আমাকে দেখেই অপছন্দ করেছিলেন। তিনি পরিচালককে বলেছিলেন— এই মেয়েকে দিয়ে কাজ হবে না।" তবে শুটিং শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই নিশার প্রতিভা দেখে নিজের ভুল স্বীকার করেন নানা পাটেকর। এমনকি মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদও করেন তিনি।
শুরুর দিকে নিশার ‘রাজকীয়’ চেহারার কারণে আর্ট-হাউস সিনেমায় কাজ করা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী স্মিতা পাতিল এবং পরিচালক শ্যাম বেনেগাল। বেনেগাল শুরুতে তাঁকে গ্রামীণ চরিত্রের অযোগ্য মনে করলেও পরে তাঁর ধারণা বদলায় এবং ‘ভারত এক খোঁজ’-এ সংযুক্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজকীয় চরিত্রে নিশাকেই কাস্ট করেন।
নব্বইয়ের দশকে ‘বুনিয়াদ’ এবং ভারতের প্রথম ইংরেজি ধারাবাহিক ‘আ মাউথফুল অব স্কাই’-এর মাধ্যমে ঘরে ঘরে পরিচিতি পান নিশা। মিলিন্দ সোমান ও রাহুল বসুর মতো তারকাদের সঙ্গে কাজ করেও ১৯৯৭ সালে বিয়ের পর হুট করেই অভিনয় ছেড়ে সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমান তিনি।
১৯৯৮ সালে কন্যাসন্তান হওয়ার পর তিনি পুরোপুরি সংসারী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অভিনয়ের চেয়ে নিজের সন্তানকে বড় করে তোলাকেই তিনি জীবনের সেরা কাজ বলে মনে করেন। ব্যক্তিগত জীবনকে সবসময়ই লাইমলাইটের বাইরে রাখতে পছন্দ করতেন এই অভিনেত্রী।
বর্তমানে নিশা সিং ভারতে ফিরে এলেও নিজেকে ব্যক্তিগত গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, খ্যাতির চেয়ে মানসিক শান্তি এবং পরিবারের সান্নিধ্যই অনেক বেশি মূল্যবান। তাঁর এই সংযত জীবনযাপন বর্তমান সময়ের তারকাদের কাছে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রয়েছে।