প্রকাশিত:
১ ঘন্টা আগে

হলিউডের বক্স অফিস সিংহাসনে রদবদল ঘটেছে। দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী স্কারলেট জোহানসনকে টপকে এখন ইতিহাসের ‘মোস্ট ব্যাংকাবল’ বা সর্বোচ্চ আয় করা অভিনয়শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ৪৭ বছর বয়সী তারকা জো সালদানা। জেমস ক্যামেরনের ‘অ্যাভাটার’ ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় কিস্তি ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’-এর অবিশ্বাস্য সাফল্যের হাত ধরেই এই রেকর্ডটি এসেছে।
স্কারলেট জোহানসনকে পেছনে ফেলে ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয় করা অভিনেত্রী এবং সামগ্রিকভাবে সর্বোচ্চ আয় করা অভিনয়শিল্পীর মুকুট এখন জো সালদানার মাথায়।তার অভিনীত সর্বশেষ ছবি ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ মুক্তির পর এই কীর্তি অর্জিত হয়েছে। ছবিটি ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ১.২৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যবসা করেছে।
জো সালদানা এখন বিশ্বের একমাত্র অভিনয়শিল্পী, যার ঝুলিতে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করা চারটি চলচ্চিত্র রয়েছে। বক্স অফিসের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়কারী প্রথম তিনটি সিনেমার প্রতিটিতেই তিনি কেন্দ্রীয় চরিত্রে ছিলেন:
১. অ্যাভাটার (২০০৯): ২.৯২ বিলিয়ন ডলার
২. অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম (২০১৯): ২.৭৯ বিলিয়ন ডলার
৩. অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার (২০২২): ২.৩২ বিলিয়ন ডলার
৪. অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার (২০১৮): ২.০৫ বিলিয়ন ডলার
বক্স অফিস বিশ্লেষণকারী সংস্থা ‘দ্য নাম্বার্স’–এর তথ্য অনুযায়ী, জো সালদানার অভিনীত ছবিগুলোর মোট আয় এখন দাঁড়িয়েছে ১৫.৪৭ বিলিয়ন ডলার। এই রেকর্ডের মাধ্যমে তিনি স্কারলেট জোহানসন ও স্যামুয়েল এল. জ্যাকসনকে ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠে এলেন।
মাইলফলক অর্জনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সালদানা তার সহশিল্পী, পরিচালক ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, 'এই সাফল্য একার নয়। অসাধারণ সব সিনেমা, পরিচালকদের বিশ্বাস আর দর্শকদের ভালোবাসাই আমাকে এখানে এনেছে।'
বক্স অফিসের সাফল্যের পাশাপাশি সালদানার ক্যারিয়ারে এখন বসন্তকাল চলছে। ২০২৫ সালের মার্চে তিনি ‘এমিলিয়া পেরেজ’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য সেরা সহ-অভিনেত্রীর অস্কার জয় করেন। এর মাধ্যমে তিনি প্রথম ডোমিনিকান-আমেরিকান অভিনেত্রী হিসেবে একাডেমি পুরস্কার অর্জনের ইতিহাস গড়েন।
বিশ্বজুড়ে ভক্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থন ছাড়া এই অর্জন সম্ভব হতো না। এই সাফল্য আমাদের সবার।'
সালদানার এই রাজত্ব দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি ইতিমধ্যেই ‘অ্যাভাটার ৪’ (২০২৯) এবং ‘অ্যাভাটার ৫’ (২০৩১)-এর কাজ শুরু করেছেন। এছাড়া মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সে (MCU) ‘গামোরা’ হিসেবে এবং ‘স্টার ট্রেক’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে তার ফেরার গুঞ্জন রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অদূর ভবিষ্যতে কেউ তার এই ১৫ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড স্পর্শ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।