প্রকাশিত:
১ ঘন্টা আগে

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, ইরানের আন্দোলন নিয়ে শুরু থেকেই প্রকাশ্যে আরব উপসাগরীয় দেশগুলো মূলত নীরবই থেকেছে। ইরানজুড়ে যখন বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে যে শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়নে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, তখনও সৌদি আরবসহ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এতে প্রশ্ন উঠেছে সত্যিই কি ইরানের ‘পক্ষে’ কঠোর অবস্থান নিয়েছে কিনা সৌদি আরবসহ পারস্য উপসাগরে তেহরানের আরব প্রতিদ্বন্দ্বীরা। এদিকে, ইরান নিয়ে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিবেশী সৌদি আরব। রিয়াদ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালানোর জন্য তারা নিজেদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না।
সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এক বিশেষ বার্তায় জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য আর কোনো ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ চায় না।
বুধবার সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর নিশ্চিত করেছে। সৌদি আরব সরাসরি তেহরানকে এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপের অংশ হবে না। রিয়াদ স্পষ্ট করেছে, ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর সামরিক হামলার হুমকি দিলেও সৌদি আরবের মাটি বা আকাশপথ হামলার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না।
সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের কর্মীদের এবং নাগরিকদের জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা জারির পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে সামরিক স্থাপনাগুলোর আশেপাশে চলাচলের ক্ষেত্রে সাবধান থাকতে বলা হয়েছে।
মৌখিক বার্তার বাইরেও দুই দেশ সামরিক সহযোগিতার পথে হাঁটছে। সম্প্রতি ওমান উপসাগরে চীন ও রাশিয়ার সাথে ইরান যে যৌথ নৌ-মহড়া চালিয়েছে, সেখানে পর্যবেক্ষক হিসেবে সৌদি আরবের উপস্থিতি ছিল একটি শক্তিশালী বার্তা। এছাড়া, ইরানের সেনাপ্রধান জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি সম্প্রতি রিয়াদ সফর করেছেন, যা কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম কোনো উচ্চপর্যায়ের ইরানি সামরিক নেতার সৌদি সফর।
সৌদি আরবের এই অবস্থানে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইসরায়েল আশা করেছিল সৌদি আরবের সাথে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর মাধ্যমে ইরানবিরোধী একটি শক্তিশালী জোট গঠন করবে। কিন্তু রিয়াদের বর্তমান অবস্থান সেই পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, তারা সৌদি আরবের এই নতুন অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছে।
গোয়েন্দা ও সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানাচ্ছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই আক্রমণ শুরু হতে পারে। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কয়েকদিন ধরেই ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ দমনে সরকারের কড়াকড়ির প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সরাসরি বিক্ষোভকারীদের পক্ষ নিয়ে সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ইরানকে খুব বড় মূল্য দিতে হবে এবং মার্কিন সাহায্য খুব শীঘ্রই সেখানে পৌঁছাবে।
সৌদি আরবের এই কঠোর বার্তা প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্য এখন আর পশ্চিমাদের ছক অনুযায়ী চলতে ইচ্ছুক নয়। রিয়াদ ও তেহরানের এই নতুন রসায়ন যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং ক্ষমতার ভারসাম্যে এক আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসবে।