প্রকাশিত:
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

২০১৬ সালে নেটফ্লিক্সের ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ সিরিজের মাধ্যমে রাতারাতি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান মিলি। প্রথম সিজনে প্রতি পর্বে মাত্র ১০ হাজার ডলার আয় করা এই অভিনেত্রী সিরিজের শেষ সিজনে এসে প্রতি পর্বের জন্য নিচ্ছেন প্রায় ৫ লাখ ডলার। এই দীর্ঘ এক দশকের যাত্রায় কেবল এই একটি সিরিজ থেকেই তিনি কয়েক মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন।
মিলির বিশেষত্ব হলো তিনি কেবল ক্যামেরার সামনেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। ‘এনোলা হোমস’ এবং ‘ড্যামসেল’-এর মতো বড় বাজেটের চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি ছিলেন নির্বাহী প্রযোজক। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ‘এনোলা হোমস ২’-এর জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার পারিশ্রমিক নিয়ে তিনি ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী অভিনেত্রী হিসেবে রেকর্ড গড়েন। তার নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ‘পিসিএমএ প্রোডাকশনস’ (PCMA Productions) এখন হলিউডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম।
মিলি কেবল সিনেমা হলের পর্দা কাঁপাননি, তরুণ প্রজন্মের ড্রেসিং টেবিলও দখল করেছেন তার বিউটি ব্র্যান্ড ‘ফ্লোরেন্স বাই মিলস’ (Florence by Mills) দিয়ে। ২০১৯ সালে চালু হওয়া এই ব্র্যান্ডটি বর্তমানে স্কিনকেয়ার, কসমেটিকস থেকে শুরু করে ফ্যাশন ও কফি ব্যবসায়ও প্রসারিত। তার আয়ের একটি বড় অংশ আসে এই সফল ব্যবসা এবং লুই ভিতোঁ (Louis Vuitton) ও স্যামসাংয়ের মতো বড় ব্র্যান্ডের দূতিয়ালি থেকে।
বিশ্বখ্যাতির সঙ্গে মিলি ববি ব্রাউনকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে শুরু হয় সমালোচনা ও ট্রলিং। অল্প বয়সে খ্যাতির ভার কাঁধে নিয়ে মিলিকে নেটদুনিয়ায় বিষাক্ত আক্রমণের মুখেও পড়তে হয়েছে। একটা সময় টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে বাধ্য হন তিনি। মিলি ববি ব্রাউন বলেন, খ্যাতির চাপে মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া কতটা জরুরি। তিনি বিভিন্ন সময় সাক্ষাৎকারে বুলিংয়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, তরুণদের আত্মবিশ্বাসী হওয়ার বার্তা দিয়েছেন।
ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোন থেকে সামাজিক মাধ্যমে উপস্থিতি ও বিশ্বব্যাপী ফ্যানবেস—সব মিলিয়ে ব্র্যান্ডটি বড় বাজার দখল করে নিয়েছে। মিলি ববি প্রমাণ করেছেন, তিনি শুধু পর্দার তারকাই নন; সমসাময়িক ব্র্যান্ড–সংস্কৃতিরও অংশ। অল্প বয়সেই এ অভিনেত্রী বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২০ মিলিয়ন ডলার বা ২৪৫ কোটি টাকার বেশি, যা টিভি সিরিজের পারিশ্রমিক, চলচ্চিত্র, ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট ও নিজস্ব ব্যবসা থেকে এসেছে।
ব্যক্তিগত জীবনে কিংবদন্তি রকস্টার জন বন জোভির পুত্র জেক বন জোভির সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন মিলি। ক্যারিয়ার আর সংসার—দুই ক্ষেত্রেই তিনি এখন সফলতার শিখরে। তার এই সাফল্য কেবল গ্ল্যামারের গল্প নয়, বরং কঠোর পরিশ্রম এবং ব্যবসায়িক দূরদর্শিতার এক বিরল উদাহরণ।