প্রকাশিত:
২১ জানুয়ারী, ২০২৬

প্রকৃতি যেন তার চরম প্রতিশোধ নিতে শুরু করেছে। বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের যে অশনিসংকেত দেওয়া হচ্ছিল, তা এখন বাস্তব রূপ নিচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, ২০২৬ সাল হতে চলেছে আধুনিক মানব ইতিহাসের এবং নথিবদ্ধ তাপমাত্রার রেকর্ডে 'সবচেয়ে উষ্ণতম বছর'। পূর্ববর্তী সকল রেকর্ড ভেঙে এ বছর বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারে।
২০২৫ সালের শেষার্ধ থেকে শুরু হওয়া শক্তিশালী 'এল নিনো' (El Niño) প্রভাব এখন তুঙ্গে। প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণতা পুরো বিশ্বের বায়ুমণ্ডলে তাপ ছড়িয়ে দিচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এল নিনোর এই শক্তিশালী চক্রের সাথে মানুষের তৈরি গ্রিনহাউস গ্যাসের সংমিশ্রণ ২০২৬ সালকে একটি ‘জলবায়ু নরকে’ পরিণত করতে পারে।
নাসা (NASA) এবং ইউরোপীয় জলবায়ু সংস্থা ‘কোপার্নিকাস’-এর যৌথ গবেষণা বলছে, ২০২৬ সালে বিশ্বের অনেক দেশে দাবদাহ বা হিটওয়েভ আগের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এবং প্রাণঘাতী হবে। বিশেষ করে এশিয়া, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার বড় শহরগুলো ৪ ডিগ্রি থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত অতিরিক্ত তাপমাত্রার সম্মুখীন হতে পারে।
তীব্র দাবদাহের ফলে অ্যান্টার্কটিকা এবং গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলার গতি কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে শুধু সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাই বাড়বে না, বরং সমুদ্রের স্রোতের স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতিও বদলে যাবে, যা বিশ্বজুড়ে অনিয়মিত ঝড় ও বন্যার কারণ হবে।
শিল্পবিপ্লবের আগের সময়ের (১৮৫০-১৯০০) তুলনায় ২০২৬ সালে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ১ দশমিক ৩৫ থেকে ১ দশমিক ৫৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে। এর মধ্যে প্রায় ১২ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে এই উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গুরুত্বপূর্ণ সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিজ্ঞানীদের মতে, কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অতিরিক্ত তাপমাত্রার পেছনে ২০২৩-২৪ সালের শক্তিশালী এল নিনো আবহাওয়া ঘটনাও ভূমিকা রেখেছে। এএফপি।
২০২৬ সালের এই রেকর্ড উষ্ণতা শুধুমাত্র একটি সংখ্যা নয়, বরং এটি পৃথিবীর অস্তিত্বের প্রতি এক চরম সতর্কবার্তা। কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে দ্রুত ধাবিত না হলে আগামী বছরগুলো আরও বেশি উত্তপ্ত ও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।