প্রকাশিত:
৪ নভেম্বর, ২০২৫

উত্তরা, বনশ্রী, আফতাবনগর, খিলগাঁও, মিরপুরের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে সাপ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউকের ফ্ল্যাটগুলোতে সবচেয়ে বেশি সাপ দেখা গেছে। এখানে সাত- নয়তলা ফ্ল্যাটে উঠেও সাপ পাওয়া গেছে। উদ্ধারকারীরা ধারণা করছেন, ফ্ল্যাটের বাইরে বাগানের লতানো গাছ সাপদের উপরের তলায় উঠার সুযোগ দিচ্ছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ আহসান বলেন, “ঢাকায় এত বিষধর সাপ দেখা অস্বাভাবিক। তবে এ ধরনের পরিস্থিতি আবহাওয়া ও মানুষের ক্রমবর্ধমান আবাসিক বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটতে পারে।”
মিজানুর রহমান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ভেনোম রিসার্চ সেন্টারের রিসার্চ এসোসিয়েট, বলেন, “মানুষ জলাশয়, খালবিল ভরাট করে বাসস্থান তৈরি করেছে। ফলে সাপদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকুচিত হয়েছে। তারা মানুষদের আশেপাশের ঝোপঝাড়, গৃহ ও বহুতল ভবনে ঢুকে পড়ছে। বর্ষার সময়, বিশেষত অক্টোবর-নভেম্বর মাসে, সাপেরা প্রজননের জন্য বেশি সক্রিয় থাকে। তাই এই সময়ে সাপ দেখা স্বাভাবিক।”
বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ জানান, “উদ্ধারকৃত সাপগুলোকে ঢাকার বাইরে প্রাকৃতিক বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হচ্ছে। এই অভিযান বন বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হলেও, তাদেরও অবহিত করা হয়।”
সাপ উদ্ধারের পর সাধারণ মানুষের কাছে রাখার অনুমতি নেই। আইন অনুসারে, বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে সাপ, কোনো ব্যক্তিগত সংগ্রহে রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ।
পদ্মগোখরা প্রজননের সময় পানির কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে। ঢাকা শহরে বর্ষায় জলাবদ্ধতা, ভরাট খাল-বিল এবং গর্তের কারণে তারা মানুষের বসতিতে চলে আসে। সাপ উদ্ধারের সংখ্যা বৃদ্ধির আরেকটি কারণ হলো – ঢাকায় নতুনভাবে সাপ উদ্ধারকারী সংস্থার কার্যক্রম। আগে মানুষ সাপ দেখলে মেরে ফেলা হতো, এখন উদ্ধার করা হয়।