প্রকাশিত:
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়, সাধারণত পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০টি ট্রাকে করে ১,০০০ মেট্রিক টন আলু বাংলাদেশের বাজারে আসে। কিন্তু বাংলাদেশে বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বৈধ পথে আলু রফতানি প্রায় বন্ধ। ফলে রাজ্যে আলুর মজুত বাড়ছে কিন্তু বিক্রির পথ সংকুচিত হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের আলুর সবচেয়ে বড় এবং সহজলভ্য বাজার ছিল বাংলাদেশ। তবে ২০২৬ সালের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বাণিজ্যিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে গেছে।
বাংলাদেশে গত দুই মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হওয়ায় সে দেশের সরকার স্থানীয় চাষিদের স্বার্থ রক্ষায় আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।
বাংলাদেশে ডলারের বিনিময় হার এবং উচ্চ আমদানি শুল্কের কারণে ভারত থেকে আলু কেনা ওপার বাংলার আমদানিকারকদের জন্য লোকসানজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুই দেশের সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সীমান্ত বাণিজ্যে বাড়তি কড়াকড়িও এই রফতানি বন্ধের অন্যতম কারণ।
পশ্চিমবঙ্গের হুগলি, বর্ধমান, বাঁকুড়া এবং মেদিনীপুরের হিমঘরগুলোতে (কোল্ড স্টোরেজ) এখনও কয়েক লক্ষ টন আলু পড়ে রয়েছে।
যে আলু রফতানি হলে চাষিরা বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ৮০০-৯০০ টাকা পেতে পারতেন, এখন স্থানীয় বাজারে তা ৪০০-৫০০ টাকার নিচে নেমে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে চাষির উৎপাদন খরচও উঠছে না।
নতুন মৌসুমের আলু আসার সময় হয়ে গেলেও পুরনো আলু হিমঘর থেকে বের হচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা আলু নিতে না আসায় কোল্ড স্টোরেজ মালিকদের পাওনা টাকা আদায় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
কলকাতায় আয়োজিত অ্যাসোসিয়েশনের ৬১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় সভাপতি সুনীল কুমার রানা জানান, ‘‘বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধি, শ্রমিকের মজুরি এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাড়ার ফলে হিমঘর চালানো এখন অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ হয়ে পড়েছে।’’ গত বছর যে লোডিং চার্জ বস্তা প্রতি ৮.৫৭ টাকা ছিল, এবার তা বেড়ে ১১ টাকা হয়েছে।
এই বিপর্যয় থেকে বাঁচতে পশ্চিমবঙ্গের আলু ব্যবসায়ী ও প্রগতিশীল চাষি সংগঠনগুলো রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো:
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশে আলু রফতানির পথ সুগম করা।
সরকার সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে আলু কিনে মিড-ডে মিল বা রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিতরণ করা।
যেসব চাষি ও ব্যবসায়ী বড় ধরণের লোকসানের মুখে পড়েছেন, তাদের জন্য আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা।
রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার এবং কৃষি বিপণন মন্ত্রী বেচরাম মান্না জানিয়েছেন, সরকার বিষয়টি নজর রাখছে। বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে কম জলীয় অংশযুক্ত আলু চাষ করতে পারলে ভবিষ্যতে রফতানির সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
পশ্চিমবঙ্গের আলু শিল্পের এই ধস প্রমাণ করে যে একটি মাত্র বাজারের (বাংলাদেশ) ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এখন সময় এসেছে আলুর প্রক্রিয়াকরণ শিল্প (Processing Industry) গড়ে তোলার, যাতে আলু কেবল সবজি হিসেবে নয়, চিপস বা পাউডার হিসেবেও রফতানি করা যায়।