প্রকাশিত:
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) এক কড়া বিবৃতিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যারা সন্ত্রাসবাদের প্ররোচনায় দেশ ছেড়েছিল, তাদের ফিরিয়ে আনার কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে সরকারের নেই।
প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ সংবাদ সম্মেলনে অত্যন্ত কঠোর ভাষা ব্যবহার করে বলেন, যারা 'ইসলামিক স্টেট' (IS)-এর তথাকথিত খেলাফতে যোগ দিতে অস্ট্রেলিয়ার নিরাপদ জীবন ছেড়ে সিরিয়া গিয়েছিল, তাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখানোর সুযোগ নেই। তিনি উল্লেখ করেন:
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "যারা আমাদের মূল্যবোধ এবং জীবনব্যবস্থাকে ঘৃণা করে বিদেশে গিয়েছে, তাদের দায়ভার অস্ট্রেলিয়ার করদাতারা নেবে না। তারা জেনেবুঝেই এই পথ বেছে নিয়েছিল।" সরকার মনে করছে, এসব নাগরিককে ফিরিয়ে আনলে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এবং উগ্রবাদী মতাদর্শ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
সম্প্রতি রোজ শিবির থেকে ১১টি আইএস-সংযুক্ত অস্ট্রেলিয়ান পরিবার দামেস্কে চলে গেছে এবং পরে দেশে ফিরে এসেছে। তবে সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী ৩৪ জন অস্ট্রেলিয়ান নারী ও শিশুকে আটক করেছে। তাদের পাসপোর্টে প্রবেশ স্ট্যাম্প এবং সরকারি অনুমোদনও ছিল না।
সম্প্রতি সিরিয়ার আল-রোজ ও আল-হোল শিবিরে আটকে থাকা অন্তত ১১টি পরিবারের ৩৪ জন অস্ট্রেলীয় নারী ও শিশু নিজেদের উদ্যোগে দেশে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন।
সিরিয়ার কুর্দি কর্তৃপক্ষ তাদের সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে দিলেও অস্ট্রেলিয়া সরকারের অসহযোগিতার কারণে তারা পুনরায় শিবিরে ফেরত যেতে বাধ্য হয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান আইন অনুযায়ী, সরকার ঘোষিত ‘নিষিদ্ধ এলাকা’ থেকে কেউ ফিরলে তাকে অন্তত ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং কঠোর গোয়েন্দা নজরদারির সম্মুখীন হতে হবে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো সরকারের এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করছে।
‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ এবং রেড ক্রস জানিয়েছে, শিবিরে থাকা শিশুদের সিংহভাগেরই জন্ম সিরিয়ায় এবং তারা কোনো অপরাধ করেনি। অপুষ্টি ও চিকিৎসার অভাবে সেখানে অনেক শিশু মারা যাচ্ছে।
তাদের মতে, নাগরিকদের ফিরিয়ে এনে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বিচার করা উচিত, কিন্তু তাদের এভাবে অন্য দেশে রাষ্ট্রহীন ও অনিরাপদ অবস্থায় ফেলে রাখা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি তাদের কিছু নাগরিককে ফিরিয়ে নিলেও অস্ট্রেলিয়া এই বিষয়ে শুরু থেকেই রক্ষণশীল। আলবানিজ প্রশাসনের এই অবস্থান মূলত দেশের রক্ষণশীল ভোটারদের তুষ্ট রাখা এবং উগ্রবাদ মোকাবিলায় একটি কঠোর বার্তা দেওয়ার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।