প্রকাশিত:
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

পশ্চিম আফ্রিকায় ক্রমবর্ধমান চরমপন্থী তৎপরতা ও সন্ত্রাসবাদ দমনে নাইজেরিয়ায় নতুন করে আরও ১০০ জন মার্কিন সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজা এবং পেন্টাগন সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সাহেল অঞ্চলে বোকো হারাম এবং আইএসআইএস-এর সহযোগী সংগঠন আইএসডব্লিউএপি (ISWAP)-এর ক্রমবর্ধমান হামলার প্রেক্ষাপটে মার্কিন বাহিনীর এই উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, মার্কিন সেনারা স্থানীয় বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করবেন। সম্প্রতি মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে বেশ কয়েকটি বিমান নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পৌঁছেছে।
নতুন করে মোতায়েন করা এই ১০০ সদস্যের বিশেষ দলটির মূল কাজ সরাসরি যুদ্ধ নয়, বরং নাইজেরীয় বাহিনীকে কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তা প্রদান করা।
ড্রোন নজরদারি এবং উন্নত সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে জঙ্গি আস্তানা শনাক্ত করতে তারা স্থানীয় বাহিনীকে সাহায্য করবে। নাইজেরীয় সেনাবাহিনীর স্পেশাল ফোর্সেসকে আধুনিক গেরিলা যুদ্ধ এবং উন্নত বিস্ফোরক (IED) শনাক্তকরণে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।দুর্গম এলাকায় রসদ সরবরাহ এবং জরুরি মেডিকেল উচ্ছেদ (Medevac) প্রক্রিয়ায় মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে।
২০২৬ সালের শুরু থেকেই নাইজেরিয়ার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বোকো হারাম এবং ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (ISWAP)-এর তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।সম্প্রতি বেশ কয়েকটি স্কুল ও জনবসতিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।নাইজার এবং মালি থেকে ফরাসি ও মার্কিন বাহিনীর আংশিক প্রত্যাহারের পর যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, জঙ্গিরা তার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে নাইজেরিয়ায় মার্কিন উপস্থিতি বাড়ানোকে ওয়াশিংটনের 'আফ্রিকায় পুনঃপ্রবেশ' কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডিসেম্বরে, নাইজেরিয়ার উত্তরপূর্বাঞ্চলে ইসলামিক স্টেট (আইএস) সম্পর্কিত জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এরপর ছোট একটি মার্কিন দল নাইজেরিয়ায় গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে।
নাইজেরিয়ার নতুন সরকার দীর্ঘদিনের এই বিদ্রোহ দমনে মিত্র দেশগুলোর সামরিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছিল।
আবুজা জানিয়েছে, এই ১০০ জন মার্কিন সদস্য নাইজেরিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় একটি শক্তিশালী 'ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার' হিসেবে কাজ করবে।
আফ্রিকা মহাদেশে রাশিয়া (ওয়াগনার গ্রুপ) এবং চিনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের মাঝে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ একটি ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন সেনা মোতায়েন নিয়ে নাইজেরিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।কিছু স্থানীয় মানবাধিকার গোষ্ঠী বিদেশি সেনাদের উপস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল সম্ভব নয়; এর জন্য দারিদ্র্য বিমোচন ও শিক্ষার প্রসারও সমান জরুরি।
চলতি মাসে আরও ২০০ জন মার্কিন সেনা আসার কথা রয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট দপ্তরের মুখপাত্র জানিয়েছেন, নাইজেরিয়ার যুদ্ধবিমান ও অস্ত্র ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে মার্কিন সমর্থন প্রয়োজন।
নাইজেরিয়ায় বাড়তি মার্কিন সেনা মোতায়েন প্রমাণ করে যে, সাহেল অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত নাজুক। বোকো হারাম ও আইএসআইএস-এর মতো গোষ্ঠীগুলোকে দমন করা না গেলে তা পুরো আফ্রিকার স্থিতিশীলতাকে সংকটে ফেলতে পারে।