প্রকাশিত:
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

প্রায় চার বছর ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে আবারও বসছে শান্তি আলোচনা। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বুধবার নতুন করে বৈঠকে বসছেন ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধি দল। এই আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে যুক্তরাষ্ট্র।তবে ৬ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার টেবিল থেকে শান্তির সাদা পায়রা ওড়েনি; বরং উভয় পক্ষই তাদের নিজ নিজ অনড় অবস্থানে স্থির রয়েছে।
বৈঠকে মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
১. অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি দিয়ে জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে গোলাবর্ষণ বন্ধ করে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা।
২. মানবিক করিডোর থেকে অবরুদ্ধ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরগুলো থেকে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার নিশ্চয়তা।
৩. রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব,অধিকৃত অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ এবং ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা গ্যারান্টি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি দ্রুত একটি সম্মানজনক চুক্তিতে যেতে চান। তবে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, রাশিয়া আদৌ শান্তি চায় কী না।
অন্যদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভ্লাদিমির মেদিনস্কি। ইউক্রেনের পক্ষে আছেন রুস্তেম উমেরভ। এদিকে আলোচনা শুরুর আগেই আবারও হামলার অভিযোগ উঠেছে। ইউক্রেন বলেছে, রাশিয়া এক রাতে ২৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রায় ৩৯৬টি ড্রোন ছুড়েছে। এতে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
রাশিয়াও পাল্টা অভিযোগ করেছে, ইউক্রেন ১৫০টির বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছে, বিশেষ করে ক্রিমিয়া অঞ্চলে।
দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও বড় কোনো ব্রেকথ্রু না আসার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে দুই দেশের বিপরীতমুখী শর্তাবলি।
কিয়েভ স্পষ্ট জানিয়েছে, রাশিয়ার সমস্ত সৈন্য প্রত্যাহার এবং ইউক্রেনের পূর্ণ আঞ্চলিক অখণ্ডতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো চুক্তিতে সই করবে না।
অন্যদিকে মস্কো তাদের দখলকৃত অঞ্চলগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে এবং ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ না দেওয়ার আইনি নিশ্চয়তার দাবিতে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৬ ঘণ্টা সময়টি একটি বিশাল যুদ্ধের অবসানের জন্য যথেষ্ট নয়। তবে সমাধানের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। দুই পক্ষই পরবর্তী রাউন্ডের আলোচনার জন্য প্রাথমিক সম্মতি জানিয়েছে, যা কূটনীতির ভাষায় একটি ছোট ইতিবাচক পদক্ষেপ।
৬ ঘণ্টার এই বৈঠক যুদ্ধের উত্তাপ কমাতে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যর্থ হলেও, আলোচনার টেবিল সচল থাকাটাই এই মুহূর্তে একমাত্র আশার আলো। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে পরবর্তী কূটনৈতিক মুভমেন্টের দিকে।