প্রকাশিত:
১২ জানুয়ারী, ২০২৬

রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনের জন্য নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে যুক্তরাজ্য। নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটি ২০০ কেজি বিস্ফোরক (ওয়্যারহেড) বহন করে ৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারবে।
‘প্রজেক্ট নাইটফল’ নামের বিশেষ একটি প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা হচ্ছে এই ক্ষেপণাস্ত্র।
যুক্তরাজ্যের সরকারের ওয়েব পোর্টাল গভ ডট ইউকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত কয়েক মাসে রাশিয়ার মুহুর্মুহু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামো চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্রিটেন মনে করে, কেবল আকাশ প্রতিরক্ষা দিয়ে ইউক্রেনকে রক্ষা করা সম্ভব নয়; বরং রাশিয়ার আক্রমণাত্মক অবস্থান দুর্বল করতে পাল্টা আঘাতের ক্ষমতা প্রয়োজন। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, "ইউক্রেন কেবল টিকে থাকার জন্য লড়ছে না, তারা জয়ের জন্য লড়ছে। আর জয়ের জন্য তাদের হাতে উপযুক্ত অস্ত্র থাকা প্রয়োজন।"
এক প্রতিবেদনে গভ ডট ইউকে-তে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পের সবগুলো ক্ষেপণাস্ত্র হবে নাইটফল সিরিজের অন্তর্গত। প্রতি মাসে ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হবে এবং এক একটি ক্ষেপণাস্ত্রের দাম পড়বে ৮ লাখ পাউন্ড।
লন্ডনের এই সিদ্ধান্ত ক্রেমলিনকে ক্ষুব্ধ করেছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইউক্রেনকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা মানে হলো এই যুদ্ধে যুক্তরাজ্যের সরাসরি সম্পৃক্ততা। এর ফলে সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেইজিং ও মস্কো। তবে ন্যাটো মিত্রদের অনেকেই যুক্তরাজ্যের এই সাহসী পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেছেন, “রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্ভবত ভাবছেন যে, তিনি দায়মুক্তি পেয়ে গেছেন। এ কারণেই সম্প্রতি ইউক্রেনে হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি এবং সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোর পাশাপাশি বেসামরিক এলাকাতেও বোমা ফেলছে রুশ বাহিনী। তবে এত সহজে পুতিন ছাড় পাবেন না। ইউক্রেন লড়াই করবে এবং এ লড়াইয়ে যুক্তরাজ্য ইউক্রেনের পাশে থাকবে। এই ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাজ্যের লৌহকঠিন প্রতিশ্রুতির নিদর্শন।” সূত্র: রয়টার্স, গভ ডট ইউকে
যুক্তরাজ্যের এই সামরিক উদ্যোগ কেবল ইউক্রেনকে রক্ষা নয়, বরং ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ। এই শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যদি সময়মতো কিয়েভের হাতে পৌঁছায়, তবে ২০২৬ সালে যুদ্ধের মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।