প্রকাশিত:
২ ঘন্টা আগে

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মনোভাব পরিবর্তন করতে তিনি হোয়াইট হাউসে গিয়ে বৈঠক করেও ব্যর্থ হয়েছেন।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ডেনমার্ক ও এর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বুধবার মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাথে বৈঠক করেন।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারিনি। এটা স্পষ্ট যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের গ্রিনল্যান্ড দখল করার ইচ্ছা রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা খুব স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, এটি দেশটির স্বার্থে করা হচ্ছে না। গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক ঘাঁটি থাকা সত্ত্বেও দেশটি দখল করা ‘একেবারেই অপ্রয়োজনীয়’।
২০১৯ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন প্রথমবারের মতো গ্রিনল্যান্ড কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, তখন বিশ্বজুড়ে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালে এসে এটি আর কেবল হাস্যরস নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের একটি সুদূরপ্রসারী ভূ-রাজনৈতিক কৌশলে পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ডেনমার্ক সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ওয়াশিংটনের ‘আগ্রাসী’ পরিকল্পনা প্রশমিত করতে চেয়েছিল।
এদিকে গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় সরকার বা স্বায়ত্তশাসিত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা কোনোভাবেই নিজেদের জমি বা সম্পদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে লিজ বা বিক্রি করতে রাজি নয়। তারা বরং ডেনমার্কের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে ধীরে ধীরে পূর্ণ স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে যেতে চায়।
লোক্কে রাসমুসেন বলেন, যে ধারণা ডেনমার্কের আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে সম্মান করবে না, তা অবশ্যই সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
তিনি জানান, উভয়পক্ষ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একটি কমিটি গঠন করবে, যেটি সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে দেখবে।
বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টাকে ন্যাটোর সমর্থন করা উচিত, যদিও প্রধান ইউরোপীয় মিত্ররা সবাই ডেনমার্ককে সমর্থন করেছে।
ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড তার পরিকল্পিত গোল্ডেন ডোম বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’।
হোয়াইট হাউসের এই বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার ফলে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো সরাসরি দ্বীপটি কিনবে না, তবে অর্থনৈতিক বিনিয়োগ এবং সামরিক অবকাঠামো উন্নয়নের নামে গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে দিতে পারে।