প্রকাশিত:
১২ জানুয়ারী, ২০২৬

দক্ষিণ এশিয়ার চারটি দেশ ভারত, নেপাল, বাংলাদেশ ও ভুটানকে 'সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ' ক্যাটাগরিতে যুক্ত করেছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দেশগুলোতে শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনের যাচাই-বাছাই কঠোর করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় গত বছর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছিল ভারত, নেপাল, বাংলাদেশ এবং ভুটান থেকে।
অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে, গত এক বছরে স্টুডেন্ট ভিসায় আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা বাদ দিয়ে কাজের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েছে। এছাড়া আবেদনপত্রের সঙ্গে ভুয়া ব্যাংক ডকুমেন্ট এবং ভুল তথ্য প্রদানের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন, "আমাদের মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতের মান বজায় রাখা এবং যারা কেবল কাজের জন্য স্টুডেন্ট ভিসাকে ব্যবহার করতে চান, তাদের নিরুৎসাহিত করা।"
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, প্রকৃত শিক্ষার্থীদের সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ঝুঁকি আরও ভালোভাবে মোকাবেলা করার লক্ষ্যে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
মুখপাত্র আরও বলেন, এই পরিবর্তন অস্ট্রেলিয়ায় মানসম্পন্ন শিক্ষার জন্য আগ্রহী প্রকৃত শিক্ষার্থীদের সুবিধা প্রদান করবে। সরকার চায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আস্থা থাকুক যে, তারা একটি উচ্চমানের শিক্ষাব্যবস্থায় বিনিয়োগ করছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীরাও বিপাকে পড়তে পারেন বলে ধারণা করছেন শিক্ষা পরামর্শকরা। ঢাকার একটি শীর্ষস্থানীয় অভিবাসন পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি জানান, "অ্যাসেসমেন্ট লেভেল ৩-এ চলে যাওয়ায় এখন ভিসা রিজেকশন রেট বা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার হার অনেক বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যাদের একাডেমিক গ্যাপ আছে বা ফিন্যান্সিয়াল ডকুমেন্টে সামান্য অসংগতি রয়েছে, তাদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেল।"
অস্ট্রেলিয়া কেবল দক্ষিণ এশিয়া নয়, বরং অন্যান্য অঞ্চলের বেশ কিছু দেশের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করেছে। তবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা আপাতত আগের লেভেলেই অবস্থান করছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রাক্তন উপ-সচিব ড. আবুল রিজভী এই পদক্ষেপকে 'অত্যন্ত অস্বাভাবিক' বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এই ক্যাটাগরিগুলো বছরে সাধারণত একবার আপডেট করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার এই নতুন নীতি বাংলাদেশ থেকে যারা ২০২৬ সালের জুলাই ইনটেক-এ যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য একটি বড় ধাক্কা। এখন থেকে শিক্ষার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়া আরও নির্ভুল এবং স্বচ্ছ করার দিকে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে।