প্রকাশিত:
গতকাল

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সীমান্ত সংঘর্ষ যেকোনো মুহূর্তে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহর পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি আসার পর মার্কিন স্থাপনাগুলো উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
গত কয়েক দিনে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণ কয়েকগুণ বেড়েছে। ওয়াশিংটন মনে করছে, বৈরুতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলেও গোলযোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানায়, এই উত্তেজনা যুদ্ধের দিকে গড়ালে ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় বৈরুতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে মার্কিন দূতাবাসের অন্তত ৩০ থেকে ৫০ জন কর্মীকে দেশটি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলো ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তু হতে পারে- এমন আশঙ্কাও করছে যুক্তরাষ্ট্র।
কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে:
লেবাননে অবস্থানরত সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দ্রুত দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।নিজ দেশের নাগরিকদের লেবানন ভ্রমণে ‘লেভেল-৪’ বা সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা জারি করেছে ওয়াশিংটন।
দূতাবাস কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার খবরে লেবাননের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বৈরুত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশ ছাড়তে ইচ্ছুক মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, “যুক্তরাষ্ট্র যখন তাদের কর্মকর্তাদের সরিয়ে নেয়, তখন বুঝতে হবে পরিস্থিতি সাধারণ কূটনৈতিক সমাধানের বাইরে চলে গেছে।”
মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, উত্তেজনা যুদ্ধে রূপ নিলে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে অথবা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্র ও প্রক্সি বাহিনীগুলোকে সক্রিয় করতে পারে। বিশেষ করে লেবাননের ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
১৯৮৩ সালের বৈরুত ব্যারাক বোমা হামলার সেই ভয়াবহ স্মৃতি এখনো মার্কিন নীতি নির্ধারকদের মনে সতেজ। তাই কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে তারা আগাম সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কর্মীদের সরিয়ে নিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, কূটনীতির টেবিল নাকি যুদ্ধক্ষেত্র—আগামী দিনগুলোতে কোনটির পাল্লা ভারী থাকে।