প্রকাশিত:
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ইরানের প্রেসিডেন্ট এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথক বিবৃতিতে বাংলাদেশের সাথে বিদ্যমান ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, "বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি সফল নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া এবং নতুন সরকার গঠিত হওয়া গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় একটি বড় মাইলফলক। ইরান এই নতুন যাত্রায় বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম জনগণের পাশে আছে।"
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরান বিশ্বাস করে যে নতুন সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশে শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের ধারা আরও বেগবান হবে।
সোমবার এক বিবৃতিতে ইসমাইল বাকায়ি বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনের সফল আয়োজনে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, সংসদীয় নির্বাচনের এই সফল আয়োজন বাংলাদেশের মানুষের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এবং দেশটির জাতীয় অগ্রগতির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যেকার সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বন্ধন দীর্ঘদিনের। তেহরান আশা প্রকাশ করেছে যে, ২০২৬ সালের এই নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবমুখী ও গভীর হবে।
দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, সাহিত্য এবং পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে তেহরান।ওআইসি (OIC) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় ফিলিস্তিন ইস্যুসহ মুসলিম বিশ্বের স্বার্থ রক্ষায় দুই দেশ একযোগে কাজ করবে বলে ইরান আশাবাদী।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরান মনে করে, বাংলাদেশের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক সেতু তৈরি করবে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেছে ইরান।
বাংলাদেশের নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানানো প্রথম দেশগুলোর মধ্যে ইরান অন্যতম। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের ভারসাম্যের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিগুলোর সাথেও বাংলাদেশের নতুন সরকারের সুসম্পর্ক বজায় রাখা একটি বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচন।