প্রকাশিত:
২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবার-পরিজন নিয়ে কিংবা একা—যেভাবেই তারা সীমান্তে পৌঁছাক না কেন, আফগান প্রত্যাবাসনকারীদের নতুন করে জীবন শুরু করতে হচ্ছে দারিদ্র্য ও পরিবেশগত সংকটে জর্জরিত কোনো এক দেশে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানায়, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ইরান ও পাকিস্তান থেকে অর্ধকোটির বেশি আফগান নিজ দেশে ফিরে এসেছেন।শুধু গত বছরই সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ফিরেছেন প্রায় ৩০ লাখ মানুষ। তাদের অনেকেই কয়েক দশক কাটিয়েছেন বিদেশে। মাসকুন বলেন, এত বিপুল মানুষের আগমন সামাল দেওয়া যেকোনো দেশের পক্ষেই কঠিন।
আফগানিস্তানের বর্তমান চিত্রটি অত্যন্ত করুণ। রাজধানী কাবুল থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত প্রদেশগুলোতে সাধারণ মানুষের ঘরে খাবার নেই। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ পর্যাপ্ত খাবার পায় না। দারিদ্র্যের কষাঘাতে অনেক পরিবার তাদের ঘরের আসবাবপত্র, এমনকি জীবন বাঁচাতে নিজ সন্তানদেরও বিক্রি করে দেওয়ার মতো চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে।
আইওএমের জরিপে দেখা গেছে, পাকিস্তান ও ইরান থেকে ফেরত আসা প্রাপ্তবয়স্কদের মাত্র ১১ শতাংশের পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান রয়েছে। ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের প্রথম কয়েক মাসে যারা দেশে ফিরেছেন, তাঁদের গড় মাসিক আয় ছিল ২২ থেকে ১৪৭ মার্কিন ডলারের মধ্যে।
আফগান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, সারা দেশে প্রত্যাবাসনকারীদের মধ্যে তিন সহস্রাধিকের মধ্যে জমির প্লট বিতরণ করা হয়েছে। জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হয়েছে।
নারী কর্মীদের ওপর তালেবান সরকারের নানা নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেক আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা তাদের কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নারী ও শিশুদের ওপর। গ্রাম্য এলাকাগুলোতে যেখানে নারীরাই ছিল প্রধান স্বাস্থ্যকর্মী বা শিক্ষক, সেখানে এখন সেবার মান তলানিতে ঠেকেছে।
আফগানিস্তানের এই সংকট কেবল রাজনৈতিক নয়, এটি এখন একটি চরম মানবিক ইস্যু। রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে বিশ্ব সম্প্রদায় যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে বর্তমান শতাব্দী দেখবে এক ভয়াবহতম মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ। আফগানদের আর্তনাদ এখন কেবল সাহায্যের নয়, বরং সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার অধিকারের।