প্রকাশিত:
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
.jpg&w=3840&q=75)
সম্প্রতি একটি শীর্ষস্থানীয় মার্কিন সংবাদমাধ্যম দাবি করে যে, বর্তমান প্রশাসনের জেনারেল ড্যান কেইন হোয়াইট হাউসের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন এবং সেনার মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছেন। ওই প্রতিবেদনে অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, জেনারেলের সঙ্গে ট্রাম্পের সামরিক উপদেষ্টাদের মতবিরোধ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই ট্রাম্প তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন:
"ফেক নিউজ মিডিয়া আবার তাদের নোংরা খেলা শুরু করেছে। তারা আমাদের মহান জেনারেলদের সম্মানহানি করার চেষ্টা করছে। আমি এই প্রতিবেদনটি পড়েছি এবং এটি পুরোপুরি কাল্পনিক। এই জেনারেল একজন দেশপ্রেমিক এবং তিনি চমৎকার কাজ করছেন।"
ট্রাম্প দাবি করেছেন, গণমাধ্যম কোনো প্রমাণ ছাড়াই ‘অজ্ঞাত সূত্র’ ব্যবহার করে এই প্রতিবেদন লিখেছে, যা সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী।
ট্রাম্পের মতে, এ ধরনের প্রতিবেদন সেনাসদস্যদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায় এবং দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে।
রিপাবলিকান শিবিরের দাবি, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে ট্রাম্পের দূরত্ব দেখাতেই বিরোধীরা মিডিয়াকে ব্যবহার করছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পোস্টে লিখেছেন, কেইন ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধ “সহজেই জিততে পারে” বলেই মনে করেন, এবং তিনি কখনোই ইরানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযান বন্ধ করার কথা বলেননি—বলেছেন কেবল তিনি জানেন “কিভাবে জিততে হয়।”
কেইনের অফিস দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছে, তার দায়িত্ব হল মার্কিন নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য সাংবিধানিক নেতৃত্বকে বিভিন্ন সামরিক বিকল্প, পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রভাব ও ঝুঁকিগুলি উপস্থাপন করা।
ট্রাম্প “ভুয়া খবর” বলে অভিহিত করে বলেছেন, কেউই কেইনকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিরোধী বলে দেখাতে পারেনি। তিনি বলেন, “তিনি কীভাবে জয় করতে হয় জানেন এবং যদি তাকে বলা হয়, তিনি নেতৃত্ব দেবেন।” তাছাড়া ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধ সম্পর্কে ইতোমধ্যে প্রকাশিত সব কিছু ভুলভাবে ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে লেখা হয়েছে।
পেন্টাগন বা সংশ্লিষ্ট জেনারেলের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া না গেলেও, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে তারা রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে দেশের সেবা করে যাচ্ছেন। তবে ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য সমর্থন জেনারেলের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে ইরান আশা প্রকাশ করেছে যে, আলোচনা ফলপ্রসূ হতে পারে। তবে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের কিছু “চূড়ান্ত দাবি”—যেমন পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ, ব্যালিস্টিক মিসাইল, এবং আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি সমর্থনের মতো বিষয়গুলো মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন অনেক দাবিই ইসরাইলের নিরাপত্তা অগ্রাধিকারের সাথে মিল রয়েছে। সূত্র : আল জাজিরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প বরাবরের মতোই গণমাধ্যমের সঙ্গে তার লড়াই বজায় রাখছেন। নিজের অনুগত সামরিক কর্মকর্তাদের সুরক্ষা দেওয়া এবং মিডিয়াকে 'জনশত্রু' হিসেবে চিহ্নিত করার যে কৌশল তিনি ব্যবহার করেন, এই প্রতিবাদ তারই অংশ।