প্রকাশিত:
গতকাল

ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর তার পুরনো সেই বিতর্কিত প্রস্তাবটি পুনরায় সামনে আনেন। তিনি গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'কৌশলগত ভূখণ্ড' হিসেবে অভিহিত করেন এবং এটি কেনার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ট্রাম্পের মতে, খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
ডেনমার্ক সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড কোনো পণ্য নয় যে এটি বিক্রি করা যাবে। এই দ্বীপটি ডেনমার্কের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এর ভবিষ্যৎ ডেনমার্কের সঙ্গেই জড়িত।
তিনি আরও বলেছেন, ‘যদি এখনই আমাদের যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে বেছে নিতে বলা হয়, আমরা ডেনমার্ককেই বেছে নেবো।’
গতকাল মঙ্গলবার ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই আগ্রহের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে
১. প্রাকৃতিক সম্পদ: গ্রিনল্যান্ডে বিপুল পরিমাণ লিথিয়াম, তামা এবং বিরল খনিজ উপাদানের (Rare Earth Elements) মজুদ রয়েছে যা আধুনিক প্রযুক্তির জন্য
অপরিহার্য।
২. ভূ-রাজনীতি: আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব রুখতে গ্রিনল্যান্ডকে সামরিকভাবে ব্যবহার করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
৩. নৌ-পথ: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বরফ গলে যাওয়ায় উত্তর মেরু দিয়ে নতুন নতুন বাণিজ্যিক নৌ-পথ উন্মোচিত হচ্ছে, যার নিয়ন্ত্রণ নিতে গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, ‘নিকটতম মিত্রের (যুক্তরাষ্ট্র) কাছ থেকে আসা এমন চাপ মোকাবিলা করা মোটেও সহজ নয়।’ এর আগে গত সোমবারও গ্রিনল্যান্ড সরকার ট্রাম্পের হুমকি প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছিল।
এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্কে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। ডেনিশ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষ থেকে অন্য একটি দেশের অংশ কেনার প্রস্তাব দেওয়াটা আধুনিক কূটনীতিতে অপমানজনক।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি ভূ-রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দিয়েছে। ন্যাটোর টিকে থাকা নিয়েও সন্দেহ তৈরি করেছে। গ্রিনল্যান্ডের জনগণও নিরাপত্তা, পরিচয় ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
তবে ট্রাম্পের বারবার দ্বীপটি দখলের হুমকির মুখে স্বায়ত্ত্বশাসিত গ্রিনল্যান্ড সরকারের এই অবস্থানকে ওয়াশিংটনের প্রতি একটি শক্তিশালী প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, এর আগে ১৯৪৬ সালেও যুক্তরাষ্ট্র একবার ১০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব দিয়েছিল ডেনমার্ককে, যা সেসময়ও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।