প্রকাশিত:
গতকাল
.jpg&w=3840&q=75)
চার বছর পেরিয়ে পঞ্চম বছরে পা রাখছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রার রুশ আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূচনা হয়েছিল। এখন এই যুদ্ধ ১ হাজার ৪৬১ দিন পূর্ণ করল।
শুরুতে রাশিয়া খুব সহজে কিয়েভ দখলের আশা করেছিল; কিন্তু মস্কোর সেই হিসাবে যে মস্ত বড় ভুল ছিল, তা পরে প্রমাণিত হয়।
পুতিনের প্রধান দাবি হলো, ইউক্রেনকে কোনোভাবেই ন্যাটোর (NATO) সদস্য হতে দেওয়া যাবে না।
ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দিলে পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে, যা মস্কোর জন্য অস্তিত্বের সংকট।
পুতিন ইউক্রেনকে রাশিয়ার এবং ইউরোপের মাঝখানে একটি 'নিরপেক্ষ বাফার জোন' হিসেবে দেখতে চান, যা রাশিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
পুতিন বারবার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে দাবি করেছেন যে, ইউক্রেন কোনো পৃথক রাষ্ট্র নয়, বরং এটি রাশিয়ারই অংশ।
দনবাস (দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক), খেরসন এবং জাপোরিঝিয়া অঞ্চলকে স্থায়ীভাবে রাশিয়ার মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা পুতিনের অন্যতম লক্ষ্য।
রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সাথে ২০১৪ সালে দখল করা ক্রিমিয়া উপদ্বীপের একটি নিরবিচ্ছিন্ন স্থলপথ (Land Bridge) তৈরি করা তার অন্যতম বড় কৌশলগত বিজয়।
ইউক্রেনের দক্ষিণ উপকূল দখল করে রাশিয়া কৃষ্ণ সাগরে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে চায়।
ওডেসা এবং মারিউপোলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলো রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকলে ইউক্রেনের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে যাবে এবং রাশিয়া বিশ্বব্যাপী শস্য ও জ্বালানি বাণিজ্যে নিজের প্রভাব ধরে রাখতে পারবে।
পুতিন মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র চালিত একমেরু বিশ্বব্যবস্থা রাশিয়ার জন্য ক্ষতিকর।
ইউক্রেন যুদ্ধের মাধ্যমে পুতিন প্রমাণ করতে চান যে, রাশিয়ার অমত নিয়ে ইউরোপে কোনো নিরাপত্তা কাঠামো টিকে থাকতে পারবে না।
এই যুদ্ধের মাধ্যমে পুতিন চীন, ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার সাথে একটি শক্তিশালী বিকল্প জোট গড়তে চাচ্ছেন, যা সরাসরি পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করবে।
রাশিয়ার অভ্যন্তরে পুতিনের ক্ষমতা সুসংহত রাখতে এই যুদ্ধ একটি হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। তিনি নিজেকে একজন 'পিটার দ্য গ্রেট'-এর মতো শক্তিশালী নেতা হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যিনি হারিয়ে যাওয়া রুশ সাম্রাজ্য পুনর্গঠন করছেন।
পুতিন আসলে ইউক্রেন থেকে কেবল সামরিক বিজয় চান না, তিনি চান একটি 'নতুন বিশ্বব্যবস্থা'। যেখানে রাশিয়ার প্রভাব বলয় থাকবে অনস্বীকার্য এবং ইউক্রেন হবে সেই বলয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ২০২৬ সালের এই দিনে দাঁড়িয়ে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধক্ষেত্রে জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন, পুতিন তার ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্য থেকে এক চুলও নড়তে রাজি নন।