প্রকাশিত:
গতকাল

জাপানের জ্বালানি ইতিহাসে আজ এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং নানা কারিগরি চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দেশটির নিগাতা প্রদেশে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পুনরায় চালু করেছে টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (TEPCO)। এর আগে গত জানুয়ারিতে একবার চালুর চেষ্টা করা হলেও সামান্য কারিগরি ত্রুটির কারণে তা স্থগিত করা হয়েছিল।
২০১১ সালের সেই প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প ও সুনামিতে ফুকুশিমা দাইইচি বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর জাপানের সকল পারমাণবিক চুল্লি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া কেন্দ্রটিও তখন থেকেই অকেজো ছিল। ফুকুশিমার সেই বিতর্কিত অপারেটর প্রতিষ্ঠান ‘টেপকো’র জন্য এই কেন্দ্রের ৬ নম্বর রিয়্যাক্টরটি চালু করা এক বড় অগ্নিপরীক্ষা ছিল।
সংবাদ সংস্থা এএফপি জানায়, টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিগাতা প্রদেশে অবস্থিত কাশিওয়াজাকি–কারিওয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় পুনরায় চালু করা হয়। এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
জাপানের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাাইচি পারমাণবিক শক্তির কড়া সমর্থক। মূলত তিনটি কারণে জাপান পুনরায় এই পথে ফিরছে।জ্বালানি নিরাপত্তা, কার্বন নিরপেক্ষতা,এআই ও ডেটা সেন্টারের চাহিদা।
কেন্দ্রটি পুনরায় চালু হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ। নিগাতা অঞ্চলের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ এর বিরোধিতায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। তাদের অভিযোগ, এটি একটি সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের ওপর অবস্থিত। তবে টেপকো এবং জাপানিজ নিউক্লিয়ার রেগুলেশন অথরিটি (NRA) দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর একে নিরাপদ ঘোষণা করেছে।
তবে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির কারণে বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে জাপান আবার পারমাণবিক শক্তির দিকে ঝুঁকছে।
এরই ধারাবাহিকতায় টেপকো গত ২১ জানুয়ারি কেন্দ্রটির সাতটি রিয়্যাক্টরের একটি চালুর উদ্যোগ নেয়। কিন্তু অ্যালার্ম সক্রিয় হওয়ায় পরদিনই তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে অ্যালার্ম ব্যবস্থার সেটিংস সমন্বয় করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট রিয়্যাক্টরকে নিরাপদভাবে পরিচালনার উপযোগী বলে নিশ্চিত করে কর্তৃপক্ষ।
টেপকোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজ থেকে রিয়্যাক্টরের ভেতর ধীরে ধীরে চাপ বাড়ানো হবে এবং আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ শুরু হবে। এরপর ১৮ মার্চ নাগাদ চূড়ান্ত পরিদর্শনের পর এটি বাণিজ্যিক কার্যক্রমে প্রবেশ করবে।
টেপকোর বিবৃতি দিয়েছে যে, "নিরাপত্তাই আমাদের কাছে অগ্রাধিকার। আমাদের কর্ম ও ফলাফলের মাধ্যমে আমরা স্থানীয় জনগণের বিশ্বাস পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাব।"