প্রকাশিত:
গতকাল

গত মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে জাদুঘরের অত্যন্ত সুরক্ষিত 'অ্যাপোলো গ্যালারি' থেকে নেপোলিয়ন আমলের বেশ কিছু ঐতিহাসিক রত্ন ও রাজকীয় অলংকার চুরি হয়। ধারণা করা হচ্ছে, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় চোরচক্র লেজার সিকিউরিটি সিস্টেম অকেজো করে এই চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম দর্শনীয় এ জাদুঘর থেকে কয়েক মাস আগে রাজকীয় অলংকার চুরির ঘটনা ঘটে। ঐতিহাসিক ও বহুমূল্য সেসব অলংকার এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
লরেন্স দে কার্স ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন।
গতকাল মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট মাখোঁ ওই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে কার্সের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন এবং বলেন, ‘এ সময়ে জাদুঘরের নিরাপত্তা, আধুনিকীকরণসহ বড় প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য শান্ত পরিবেশ ও শক্তিশালী নতুন অনুপ্রেরণার প্রয়োজন ছিল।’
জাদুঘরের মতো উচ্চ-নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থানে এমন চুরির ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে রাজকীয় গ্যালারির মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি এবং সেন্সর থাকা সত্ত্বেও কীভাবে চোররা অলক্ষ্যে বেরিয়ে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্ত শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জাদুঘরের পরিচালক একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি জানান:
"এই অমূল্য জাতীয় ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্ব আমার ছিল। আমি এই বিশাল নিরাপত্তা ত্রুটির নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে পদত্যাগ করছি।"
গত বছরের ১৯ অক্টোবর সকালে চার চোরের একটি দল ট্রাকের ওপর স্থাপিত যান্ত্রিক লিফট ব্যবহার করে সেন নদীর দিকে থাকা একটি বারান্দা দিয়ে ল্যুভর জাদুঘরে প্রবেশ করেছিল। এরপর তারা বৈদ্যুতিক কাটার ব্যবহার করে নয়টি রাজকীয় অলংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। পথে একটি রাজমুকুট ফেলে যায় তারা।
ল্যুভরে প্রতিবছর ৮৭ লাখের বেশি দর্শনার্থী আসেন। কিন্তু জাদুঘরের নিরাপত্তায় বিনিয়োগে তেমন গতি নেই। কার্স আগেই নিরাপত্তা–বাজেটে সংকট থাকার বিষয়টি জানিয়েছিলেন।
অতিরিক্ত দর্শনার্থীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাওয়া কর্মীরাও জনবল বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেছিলেন।
ফ্রান্সের পার্লামেন্ট থেকে ল্যুভরের নিরাপত্তা নিয়ে এ ব্যর্থতার বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে।
ইন্টারপোল এবং ফরাসি বিশেষ গোয়েন্দা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে।অলংকারগুলো যাতে দেশের বাইরে পাচার হতে না পারে, সেজন্য ইউরোপের সব সীমান্ত ও বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।তদন্তের স্বার্থে আগামী কয়েক দিন পর্যটকদের জন্য ল্যুভর জাদুঘর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হতে পারে।
চুরি হওয়া অলংকারগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৮ শতকের বহুমূল্য হীরাখচিত নেকলেস এবং রাজকীয় মুকুটের অংশবিশেষ। শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, এর আর্থিক মূল্য কয়েক বিলিয়ন ইউরো হলেও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অমূল্য।