প্রকাশিত:
২ ঘন্টা আগে

দীর্ঘ কয়েক বছরের কঠোর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটিয়ে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। ২০২৬ সালের শুরুতেই মার্কিন জ্বালানি জায়ান্ট ‘সেভরন’ (Chevron) এবং ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় কোম্পানি পিডিভিএসএ (PDVSA)-এর যৌথ উদ্যোগে উৎপাদিত তেলের প্রথম চালানটি আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছেছে। এই পদক্ষেপকে বিশ্ব তেলের বাজারে রাশিয়ার প্রভাব কমানোর একটি কৌশলগত চাল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স এক বিবৃতিতে টাইম ম্যাগাজিনকে বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার মাদক-সন্ত্রাসী নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর তাৎক্ষণিকভাবে দেশটির সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক জ্বালানি চুক্তি করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মানুষের উপকারে আসবে।
ভেনেজুয়েলার তেল আসা শুরু করার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম (Brent Crude) প্রতি ব্যারেলে প্রায় ৩ থেকে ৪ ডলার কমেছে। ওপেকের (OPEC) সদস্য হলেও ভেনেজুয়েলার এই বিপুল সরবরাহ তেলের বৈশ্বিক রাজনীতিতে সৌদি আরব ও রাশিয়ার একক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে মাদক সরবরাহের অভিযোগে আদালতে মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়ার বিচার হবে। মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে অপহরণের তিন দিন পর ৭ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেল যুক্তরাষ্ট্রে আনার ঘোষণা দিয়ে বলেন, প্রথম চালান হিসেবে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল আসছে দেশটি থেকে।সেই প্রথম চালানের তেল বিক্রি হয়েছে ৫০ কোটি ডলারে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তারা ভেনেজুয়েলার তেল খাতে কমপক্ষে ১০০ বিলিয়ন (১০০ হাজার কোটি) ডলার বিনিয়োগ করবে, যাতে দেশটির তেল শিল্প পুনরুদ্ধার করা যায়।
তিনি আরো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল একসঙ্গে বিক্রি করবে, যেখানে আমেরিকান কম্পানিগুলোর সঙ্গে কাজ করা হবে।
রাশিয়া ও সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন ওপেক প্লাস এই ঘটনাকে গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক স্বার্থে জ্বালানি বাজারকে ব্যবহার করছে। তবে ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে, কারণ তারা এখন সস্তায় ভেনেজুয়েলার তেল কেনার সুযোগ পাবে।
ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি আর দারিদ্র্যে ধুঁকতে থাকা ভেনেজুয়েলার জন্য এই তেল বিক্রি একটি ‘লাইফলাইন’ বা সঞ্জীবনী সুধার মতো। দেশটির অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, তেল রপ্তানি স্বাভাবিক হলে আগামী দুই বছরে ভেনেজুয়েলার জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।