প্রকাশিত:
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ও চলমান সাঁড়াসি অভিযানে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে। বছরের প্রথম ৫০ দিনে দেশজুড়ে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৭ হাজার ২০০-এর বেশি অবৈধ প্রবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। আটকদের মধ্যে একটি বড় অংশ বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারের নাগরিক।
চলতি বছরের শুরু থেকেই মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইমিগ্রেশন বিভাগ সমন্বিতভাবে 'অপারেশন ওপিএস কুটিপ' (Ops Kutip) ও 'অপারেশন পিন্টু' শুরু করে। কুয়ালালামপুর, জোহর বারু, পেনাং এবং সেলাঙ্গরসহ অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। মূলত বৈধ নথিপত্র না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া এবং ওয়ার্ক পারমিটের অপব্যবহারের কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অভিযান) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের অভিবাসন আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে আরও কঠোর, সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করছে। যারা অভিবাসন আইন ও বিধি লঙ্ঘন করছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো আপস করা হবে না।
তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইমিগ্রেশন বিভাগের আইন প্রয়োগ শাখা মোট ১ হাজার ৮৫৫টি অভিযান পরিচালনা করে। এসব অভিযানে ৩০ হাজার ১৭৭ জনকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৭ হাজার ৪৩ জনকে অবৈধভাবে দেশে অবস্থানের দায়ে আটক করা হয়েছে।
আটকদের মধ্যে প্রায় ১,৯০০ জন বাংলাদেশি রয়েছেন, যা প্রবাসীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। জানা গেছে, অনেক প্রবাসী দালালের খপ্পরে পড়ে বা সঠিক সময়ে ভিসা নবায়ন করতে না পেরে অবৈধ হয়ে পড়েছেন। মালয়েশিয়ার ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে (যেমন: সেতিয়া ট্রপিকা ও বুকিত জলিল) এখন তিল ধারণের জায়গা নেই।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।
শুধু শ্রমিক নয়, অবৈধ অভিবাসীদের কাজ দেওয়ার অভিযোগে অন্তত ১৫০ জন স্থানীয় নিয়োগকর্তাকেও আটক বা জরিমানা করা হয়েছে। মালয়েশীয় আইন অনুযায়ী, অবৈধ শ্রমিক রাখলে মালিকদের বিরুদ্ধে জেল ও ভারী জরিমানার বিধান রয়েছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মালয়েশিয়া সরকার বর্তমানে তাদের শ্রমবাজার সংস্কারের চেষ্টা করছে, যার ফলে অবৈধদের আর কোনো ধরনের সাধারণ ক্ষমা (Amnesty) দেওয়ার সম্ভাবনা নেই। কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রবাসীদের সব সময় বৈধ কাগজপত্র সাথে রাখা এবং যেকোনো সমস্যায় দ্রুত দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে।
আটক অভিবাসীদের নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে যাদের বৈধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই, তাদের দ্রুত নিজ দেশে ডিপোর্ট (Deport) বা ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।