প্রকাশিত:
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় অস্থির এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি চেকপোস্ট বা চৌকি লক্ষ্য করে চালানো আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় অন্তত ১১ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর চালানো হামলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম ভয়াবহ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, হামলাকারী বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে সরাসরি নিরাপত্তা চৌকির ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, চৌকির একাংশ ধসে পড়ে এবং আশেপাশের স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দেশটির সেনাবাহিনীর আন্তঃবিভাগ সংযোগ দপ্তর আইএসপিআর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে এ তথ্য।
এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে প্রাথমিক তদন্তে বিচ্ছিন্নতাবাদী বা নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাত থাকার সন্দেহ করা হচ্ছে। পাকিস্তান সরকার এবং সেনাবাহিনী এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং অপরাধীদের খুঁজে বের করতে ওই এলাকায় চিরুনি অভিযান শুরু করেছে।
উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার পর পালানোর সময় সেনা-পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের গুলিতে ‘ফিৎনা আল খারিজি’-এর ১২ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানের নিষিদ্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ফিৎনা আল খারিজি বলে সম্বোধন করে।
আফগান সীমান্ত সংলগ্ন এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এই হামলা পুনরায় পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জগুলোকে সামনে নিয়ে এলো।
হামলার পরপরই পুরো এলাকাটি সিল করে দেওয়া হয়েছে এবং হেলিকপ্টারের সাহায্যে টহল জোরদার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই রক্তক্ষয় বিফলে যেতে দেওয়া হবে না।