প্রকাশিত:
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে ভারতের নির্বাচন কমিশনের তা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ সচিবালয় নবান্নে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মমতা বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচন হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন সেখানে সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা হতে পারে।
তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, ভারতের নির্বাচন কমিশন এখন আর স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। তার মতে:
কমিশন বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘তল্পিবাহক’ হিসেবে কাজ করছে। দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক দফায় ভোট গ্রহণ নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন, যা তার মতে কোনো একটি নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য করা হয়। ইভিএম (EVM) এবং ভোটার লিস্ট সংশোধন নিয়ে কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক কোন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন, তা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে কিছু বিশেষ দিক:
দ্রুত নির্বাচন প্রক্রিয়া: বাংলাদেশে সাধারণত একদিনেই জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হয়, যা ভারতের দীর্ঘ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিপরীত।
কমিশনের সক্রিয়তা: নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কমিশনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রশংসা শোনা গেছে তার কণ্ঠে।
ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক মিল: পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের আবহাওয়া ও সংস্কৃতি এক হওয়া সত্ত্বেও সেখানকার ব্যবস্থাপনা কেন ভারতে প্রয়োগ করা যাবে না, সেই প্রশ্নই তিনি তুলেছেন।
সামনে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের আরো চারটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে দেশটির নির্বাচন কমিশন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহু কমিশন দেখেছেন, কিন্তু এমন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ আগে দেখেননি। তার অভিযোগ, কমিশন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করছে।
মমতার এই মন্তব্যের পর বিজেপি (BJP) এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে।
বিজেপি নেতারা বলছেন, "যিনি নিজেই রাজ্যে অবাধ ভোট করতে দিতে ভয় পান, তার মুখে নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা মানায় না।" তারা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে আঙুল তুলে মমতার মন্তব্যকে 'অযৌক্তিক' বলে অভিহিত করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা আসলে ভারতের কমিশনের ওপর চাপ তৈরি করতেই এই ধরনের তুলনামূলক মন্তব্য করেছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং এটি ভারতের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে চলমান বিতর্কের একটি অংশ। প্রতিবেশী দেশের সফলতাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তিনি মূলত ভারতের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।