প্রকাশিত:
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় (যার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি), বজরং দলের ওই নেতা উত্তেজিত কণ্ঠে সমর্থকদের উদ্দেশে বলছেন যে, অনুপ্রবেশকারীরা ভারতের জন্য ‘ক্যান্সার’। তিনি উস্কানি দিয়ে বলেন, "আইনের জন্য অপেক্ষা করবেন না, প্রত্যেক বজরঙ্গি ১০ জন করে বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ করুন।"
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং সচেতন নাগরিক সমাজ দ্রুত ওই নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির দাবি জানিয়েছে।২০২৬ সালের বর্তমান অস্থিতিশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে এই ধরণের ঘৃণাভাষণ (Hate Speech) সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও সীমান্ত সংঘাতকে উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়ানায় শিবাজীর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত ‘হিন্দু গর্জন’ র্যালিতে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। বজরং দল এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এই সমাবেশের আয়োজন করেছিল।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় , বজরং দলের ওই নেতা উত্তেজিত কণ্ঠে সমর্থকদের উদ্দেশে বলছেন যে, অনুপ্রবেশকারীরা ভারতের জন্য ‘ক্যান্সার’। তিনি উস্কানি দিয়ে বলেন, "আইনের জন্য অপেক্ষা করবেন না, প্রত্যেক বজরঙ্গি ১০ জন করে বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ করুন।"
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আসন্ন নির্বাচন এবং অনুপ্রবেশ ইস্যুতে উত্তপ্ত রাজনীতির ফায়দা নিতেই এমন ভয়াবহ হুমকি দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, অসংগঠিত খাতে কাজ করা সাধারণ সবজি বিক্রেতা, রিকশাচালক বা গৃহকর্মীদের অনেক সময় ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে টার্গেট করা হচ্ছে।
এই ধরণের বক্তব্য সাধারণ মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে এবং সাম্প্রদায়িক ‘ভিজিল্যান্টিজম’ বা তথাকথিত ‘জনতার বিচার’ শুরু করতে উৎসাহিত করছে।
ভাষণের এক পর্যায়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদী টি রাজা সিং অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এবং আকবরউদ্দিন ওয়াইসিকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ ও উপহাস করেন। তিনি অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণভাবে তাদের নিজের ‘শালা’ বলে সম্বোধন করেন।
এই জঘন্য হুমকির প্রেক্ষিতে বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সিজেপি (CJP) ও মানবাধিকার গোষ্ঠী: সিটিজেনস ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস (CJP) সহ বিভিন্ন সংস্থা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়ানো এই ঘৃণাভাষণের বিরুদ্ধে ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে।
বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার পর তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। অনেকে এই বক্তব্যকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং সরাসরি গণহত্যার উস্কানি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ঢাকা-নয়াদিল্লির বর্তমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মাঝে এ ধরণের উগ্রবাদী আস্ফালন দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে তিক্ততা বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রকাশ্য জনসভায় এভাবে শিরশ্ছেদের হুমকি দেওয়া কেবল ফৌজদারি অপরাধই নয়, বরং এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। দুই দেশের সরকারের উচিত উগ্রবাদী এই গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া, যাতে করে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার বলি সাধারণ মানুষ না হয়।