প্রকাশিত:
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

চীন, রাশিয়া ও ভারতসহ কয়েকটি বড় শক্তি এ নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়ে নেপিদোর সঙ্গে যোগাযোগ স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত দিয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশেও নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে নতুন সরকার। তবে এসব রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও গৃহযুদ্ধ চলা রাখাইন রাজ্যে নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন নেই।
মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচন (জানুয়ারি ২০২৬) সত্ত্বেও রাখাইন রাজ্যের অধিকাংশ এলাকাই এখন জান্তা সরকারের হাতছাড়া।
বর্তমানে রাখাইনের ১৭টি উপজেলার মধ্যে ১৪টিই সম্পূর্ণভাবে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। তারা সেখানে নিজস্ব বিচার বিভাগ, পুলিশি ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলেছে।
বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন মংডু ও বুথিডং এলাকায় এখনো মাঝেমধ্যে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলা ও বিদ্রোহী বাহিনীর পাল্টা আক্রমণ চলছে। গত কয়েক দিনে নাফ নদী সংলগ্ন এলাকায় গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশে নির্বাচিত নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছে।
এতদিন বাংলাদেশ কেবল মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকারের (জান্তা) সাথে আলোচনা করত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে রাখাইনের প্রকৃত নিয়ন্ত্রক ‘আরাকান আর্মি’র সাথে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করা ঢাকার জন্য এখন সময়ের দাবি।
সীমান্তে মাদক পাচার (ইয়াবা ও আইস) এবং অস্ত্র চোরাচালান রোধে বিজিবি (BGB) কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি নাফ নদীতে ১ মিলিয়ন ইয়াবা বড়ি জব্দের ঘটনা সীমান্তের অস্থিরতাকেই ইঙ্গিত করে।
আরাকান আর্মি তাদের ‘আরাকান ড্রিম’ বা পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের পথে অনেকদূর এগিয়ে গেছে। তবে রাখাইনের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের ওপর:
আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের রাখাইনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে কি না, তা এখনো অস্পষ্ট। যদিও তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বলছে, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়নের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
রাখাইনে চীনের গভীর সমুদ্রবন্দর এবং ভারতের কালাদান প্রকল্প থাকায় বড় পরাশক্তিগুলোও এখন আরাকান আর্মির সাথে যোগাযোগ বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জান্তা সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সামনে আনলেও তা অন্তর্ভুক্তিমূলক নয় এবং রাখাইনসহ সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোর বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে না। ফলে এ কাঠামোর মাধ্যমে স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করছে সংস্থাটি। আটলান্টিক কাউন্সিল সতর্ক করে বলেছে, রাখাইনে সহিংসতা অব্যাহত থাকলে নতুন করে বাস্তুচ্যুতি ঘটতে পারে, যার চাপ সরাসরি বাংলাদেশের সীমান্তে পড়বে।
রাখাইনের ভবিষ্যৎ এখন আর কেবল মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের নতুন সরকারগুলো যদি রাখাইনের বর্তমান বাস্তবতাকে (আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ) আমলে নিয়ে যৌথভাবে কাজ না করে, তবে এই সীমান্ত অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী সংকটে রূপ নিতে পারে।