প্রকাশিত:
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

গত নভেম্বরে তালেবান কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়, ওষুধ আমদানিতে আমরা দশকের পর দশক ধরে পাকিস্তানের ওপর নির্ভরশীল। এ নির্ভরশীলতা শিগগিরই বন্ধ করা হবে। প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর তালেবান সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
বিশ্বব্যাংক এবং ডব্লিউএইচও (WHO) পরিচালিত স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলোয় বাজেট কাটছাঁট করায় হাসপাতালের দৈনন্দিন চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও ওষুধ সংগ্রহ করা কাবুলের জন্য দুরুহ হয়ে পড়েছে। আফগানিস্তানে নিজস্ব ওষুধ কারখানা অত্যন্ত সীমিত, যা মোট চাহিদার মাত্র ৫-১০ শতাংশ পূরণ করতে পারে।
আফগান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, ওষুধ আমদানির ক্ষেত্রে তারা বিশেষ করে বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এর কারণগুলো হলো: বিশ্বমানের গুণমান, সাশ্রয়ী মূল্য ও জরুরি ওষুধের চাহিদা।
বাংলাদেশ ছাড়াও প্রতিবেশী দেশ ইরান এবং বন্ধুপ্রতিম তুরস্ক থেকে ওষুধ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে সড়কপথে দ্রুত ওষুধ পৌঁছানোর জন্য ইরানের সাথে আলোচনা চলছে। উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং বিশেষায়িত ওষুধের ক্ষেত্রে তুরস্কের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
কাবুলের ফার্মাসিস্ট মুজিবুল্লাহ আফজালি বলেন, কিছু ওষুধের দাম বেড়েছে, কিছু মিলছে না। এতে সাধারণ মানুষের অনেক সমস্যা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে এখন ওষুধ অন্য উৎস থেকে আনতে হচ্ছে। ফলে পরিবহনের সময় ও খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি পরিবহনসংক্রান্ত সমস্যা জটিল হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সতর্ক করেছে যে, দ্রুত জীবন রক্ষাকারী ওষুধ সরবরাহ না করা গেলে আফগানিস্তানে শিশু মৃত্যুহার এবং সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়তে পারে। বর্তমানে দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্লিনিকগুলোতে প্যারাসিটামলের মতো সাধারণ ওষুধও পাওয়া যাচ্ছে না।
আফগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের কারিগরি বিষয়গুলো এবং মূল্য পরিশোধের পদ্ধতি (Payment Gateway) নির্ধারণের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে এই দেশগুলো যাতে বিশেষ কোটায় বা অনুদান হিসেবে ওষুধ সরবরাহ করে, সেই আবেদনও জানিয়েছে কাবুল।
আফগানিস্তানে ওষুধ সরবরাহ কেবল একটি বাণিজ্যিক বিষয় নয়, এটি একটি বড় ধরনের মানবিক দায়িত্ব। বাংলাদেশ যদি এই সংকটে দ্রুত সাড়া দিতে পারে, তবে তা দক্ষিণ এশিয়ায় ঢাকার 'সফট পাওয়ার' বা কূটনৈতিক ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।