প্রকাশিত:
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ইউক্রেনের ওপর পাল্টা চাপ তৈরি করতে দেশটিতে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে স্লোভাকিয়া। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এক বিশেষ ভাষণে স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। মূলত ঐতিহাসিক 'দ্রুজবা' (Druzhba) পাইপলাইন দিয়ে রুশ তেল সরবরাহ পুনরায় চালু না করার প্রতিবাদে এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ব্রাতিস্লাভা।
গত ২৭ জানুয়ারি থেকে ইউক্রেনের ভেতর দিয়ে স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরিতে রুশ তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কিয়েভের দাবি, রুশ ড্রোন হামলায় পাইপলাইনের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে একে 'রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইল' হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, পাইপলাইনটি সচল থাকা সত্ত্বেও কিয়েভ ইচ্ছাকৃতভাবে সরবরাহ বন্ধ রেখেছে।
ফিকো এক বিবৃতিতে বলেন, স্লোভাকিয়ায় ঘোষিত ‘তেল জরুরি অবস্থা’র প্রেক্ষিতে “তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ামূলক ব্যবস্থা” হিসেবে বিদ্যুৎ সহায়তা স্থগিত করা হয়েছে। তেল পরিবহন পুনরায় শুরু হলে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দেন তিনি। পাশাপাশি পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ইউক্রেনের ইইউ সদস্যপদ আকাঙ্ক্ষায় সমর্থন পুনর্বিবেচনা করার সতর্ক করেন তিনি। তবে স্লোভাকিয়ার বিরোধী দল সরকারের এমন পদক্ষেপে নিন্দা জানান।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা উভয় দেশকে গঠনমূলক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল আচরণে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো গত শনিবার কিয়েভকে দুই দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, সোমবারের মধ্যে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ কোম্পানি SEPS-কে ইউক্রেনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের নির্দেশ দেবেন। আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার পর সোমবার তিনি বলেন:
"আজ থেকে ইউক্রেনীয় পক্ষ যদি তাদের বিদ্যুৎ গ্রিড স্থিতিশীল করার জন্য স্লোভাকিয়ার কাছে সাহায্য চায়, তবে তারা আর সেই সহায়তা পাবে না।"
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা 'উক্রেনারগো' (Ukrenergo) জানিয়েছে, তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নথিপত্র পায়নি। তবে তারা দাবি করেছে, এই মুহূর্তে জরুরি সরবরাহ বন্ধ হলেও ইউক্রেনের সমন্বিত গ্রিডে বড় কোনো বিপর্যয় ঘটবে না। যদিও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি ইউরোপীয় জোটের মধ্যে একটি বড় ফাটলের ইঙ্গিত।
স্লোভাকিয়া জানিয়েছে, ইউক্রেন রুশ তেলের ট্রানজিট পুনরায় চালু করলেই কেবল বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। অন্যথায় দেশটি ইউক্রেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নে (EU) যোগদানের বিষয়ে তাদের সমর্থন পুনর্বিবেচনা করারও হুমকি দিয়েছে।