প্রকাশিত:
গতকাল

বিশ্ব রাজনীতিতে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের কালো মেঘ কাটাতে শেষ পর্যন্ত আলোচনায় বসছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। আগামী শুক্রবার ওমানের মাস্কাটে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কূটনীতিকরা একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হতে যাচ্ছেন। ২০২৬ সালের শুরু থেকে লোহিত সাগর এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলার পর এই বৈঠককে ‘যুদ্ধের বিকল্প’ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আল-জাজিরা ও রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর , ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পরমাণু আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দিয়েছেন।
গত কয়েক সপ্তাহে ইরান সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং মার্কিন বাহিনীর মধ্যে সরাসরি সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইসরায়েল ও লেবানন সীমান্তে উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ প্রায় অনিবার্য হয়ে পড়েছিল। এই সংকট নিরসনে কাতার ও ওমানের দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের মধ্যস্থতার পর দুই পক্ষই অবশেষে সরাসরি সংলাপের টেবিলে বসতে সম্মত হয়েছে।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কাতার, তুরস্ক, মিসর ও ওমানের মধ্যস্থতায় আগামী শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গেছে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, "বিশ্ব এখন আরও একটি বড় যুদ্ধ সহ্য করার অবস্থায় নেই।" অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) মনে করছে, এই বৈঠক সফল হলে বিশ্ববাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে।
সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানানোর পাশাপাশি আলোচনা সচল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে আলোচনার পথ এখনো সম্পূর্ণ মসৃণ নয়। একদিকে ট্রাম্প যেমন আলোচনার কথা বলছেন, অন্যদিকে পারস্য উপসাগরের দিকে শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে সামরিক চাপও বজায় রেখেছেন।
ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই আলোচনা নিয়ে মিশ্র অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আলোচনার নির্দেশ দিলেও দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এখনো কঠোর অবস্থানে অটল রয়েছেন।অন্যদিকে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ আজ মঙ্গলবার ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে।
সারা বিশ্ব এখন শুক্রবারের দিকে তাকিয়ে আছে। ওয়াশিংটন ও তেহরান কি পারবে দীর্ঘদিনের শত্রুতা ভুলে শান্তির নতুন কোনো পথ খুঁজে নিতে, নাকি এই আলোচনা কেবল যুদ্ধের প্রস্তুতিকে আরও দীর্ঘায়িত করবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।