প্রকাশিত:
১ ঘন্টা আগে

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের কালো মেঘে ঢাকা। প্রভাবশালী সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রবাহিনী। এই গোয়েন্দা তথ্যের পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে পেন্টাগন ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাতে উল্লেখ করেছে যে, ইরানের কৌশলগত সামরিক স্থাপনা, পারমাণবিক কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলার ছক সাজানো হয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনগুলো ইতিমধ্যেই পারস্য উপসাগরে ‘অ্যাটাক পজিশন’ বা আক্রমণের অবস্থানে রয়েছে।
ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কয়েকদিন ধরেই ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ দমনে সরকারের কড়াকড়ির প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সরাসরি বিক্ষোভকারীদের পক্ষ নিয়ে সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ইরানকে খুব বড় মূল্য দিতে হবে এবং মার্কিন সাহায্য খুব শীঘ্রই সেখানে পৌঁছাবে।
ইতোমধ্যেই উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক শক্তিতে বড় ধরনের রদবদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কাতারসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, তারা যুদ্ধ চান না তবে যুদ্ধের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।
এদিকে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু বিবৃতি। বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি তাদের সরকারি দপ্তরগুলো দখলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও বুধবার রাতে ট্রাম্প কিছুটা নমনীয় সুর দেখিয়ে দাবি করেছেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা বন্ধ হয়েছে বলে তিনি খবর পেয়েছেন, তবুও সামরিক হামলার আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না আন্তর্জাতিক মহল।
এই খবরের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সোনার দাম ও জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উভয় পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং সতর্ক করেছেন যে, একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা পুরো বিশ্বের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। কূটনৈতিক পর্যায়ে সংঘাত এড়ানোর শেষ চেষ্টা চলছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে রণসজ্জা ও সামরিক মুভমেন্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্য একটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে।