প্রকাশিত:
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) হিব্রু সংবাদপত্র ইয়েদিওথ আহরোনোথ আয়োজিত এক সম্মেলনে ইসরায়েল কাৎজ তার সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, “আমরা হামাসকে কোনোভাবেই গাজায় থাকতে দেব না—না অস্ত্র নিয়ে, না টানেল নিয়ে। আমাদের স্লোগান খুব সহজ: শেষ টানেলটি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, হামাস যদি তাদের অস্ত্র সমর্পণ না করে এবং টানেলগুলো ধ্বংস না হয়, তবে ইসরায়েলি বাহিনী বর্তমানে গাজার যে অবস্থানে রয়েছে, সেখান থেকে এক চুলও নড়বে না।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে হামাসের সামরিক সক্ষমতা নির্মূল করার বিষয়ে ইসরায়েলের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, হামাসকে অস্ত্র বা টানেলসহ কোনোভাবেই গাজায় থাকতে দেওয়া হবে না এবং তাঁদের স্লোগান হচ্ছে ‘শেষ টানেলটি ধ্বংস না করা পর্যন্ত অভিযান চলবে’।
উল্লেখ্য যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গাজা যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছিল, যার দ্বিতীয় ধাপ গত মাস থেকে শুরু হয়েছে। এই ধাপের শর্তানুযায়ী:
ইসরায়েলি সেনাদের পর্যায়ক্রমে গাজা থেকে প্রত্যাহার করার কথা।গাজায় পুনর্গঠন কাজ শুরু এবং মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে। গাজা পরিচালনার জন্য একটি প্রশাসনিক কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে ইসরায়েলের এই সাম্প্রতিক ঘোষণা ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনাকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ইসরায়েলি ক্যাবিনেট সেক্রেটারি ইয়োসি ফুচ জানিয়েছেন, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের জন্য তারা ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। যদি এই সময়ের মধ্যে হামাস অস্ত্র ত্যাগ না করে, তবে ইসরায়েল পুনরায় পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ শুরু করার হুমকি দিয়েছে।
প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ‘শিল্ড অফ ইসরায়েল’ নামে একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় আগামী এক দশকে প্রতিরক্ষা বাজেটে আরও ৩৫০ বিলিয়ন শেকেল (প্রায় ৯৫ বিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ দেওয়া হবে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দুই বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে গাজায় ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং বেসামরিক অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই ‘এক মিলিমিটারও না সরা’র জেদ গাজায় দীর্ঘমেয়াদী দখলদারিত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি একদিকে যেমন মানবিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে ইসরায়েলের কূটনৈতিক দূরত্বও বাড়িয়ে দিতে পারে।
গাজায় যখন শান্তি ফেরার কথা ছিল, তখন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণা যুদ্ধবিরতিকে কেবল একটি 'সাময়িক বিরতি' হিসেবে প্রমাণ করছে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠছে।