প্রকাশিত:
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সামরিক শক্তিতে স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে আরও একধাপ এগিয়ে গেল ভারত। ফ্রান্সের সাথে যৌথ উদ্যোগে এখন ভারতেই উৎপাদিত হবে আকাশ থেকে জমিতে নিক্ষেপযোগ্য অত্যন্ত শক্তিশালী ‘হ্যামার’ (AASM HAMMER) ক্ষেপণাস্ত্র। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, ফরাসি প্রতিরক্ষা জায়ান্ট ‘সাফরান’ (Safran) এবং ভারতের শীর্ষস্থানীয় একটি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই প্রযুক্তি হস্তান্তরের চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে।
এতদিন পর্যন্ত ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF) জরুরি প্রয়োজনে ফ্রান্স থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আমদানি করত। বিশেষ করে লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনার সময় দ্রুত হ্যামার মিসাইল কেনা হয়েছিল।
নিজস্ব কারখানায় এই মিসাইল তৈরি হলে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। চুক্তির আওতায় ফ্রান্স কেবল মিসাইল দেবে না, বরং এর সূক্ষ্ম কারিগরি প্রযুক্তিও ভারতকে প্রদান করবে, যা ভারতের নিজস্ব মিসাইল প্রোগ্রামকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
ফরাসি প্রযুক্তির এই ‘স্মার্ট’ ক্ষেপণাস্ত্রটি আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে গেম-চেঞ্জার হিসেবে পরিচিত। এটি ৭০ কিলোমিটারেরও বেশি দূর থেকে শত্রুর বাঙ্কার, কমান্ড সেন্টার বা চলমান লক্ষ্যবস্তু সুনির্দিষ্টভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম। জিপিএস এবং লেজার গাইডেড প্রযুক্তির কারণে এটি যেকোনো আবহাওয়ায় এবং রাতেও সমান কার্যকর।এটি ভারতের হাতে থাকা রাফাল (Rafale) যুদ্ধবিমানের প্রধান অস্ত্র। এছাড়া দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজাস (LCA Tejas) বিমানেও এটি যুক্ত করার কাজ চলছে।
‘হ্যামার’ মূলত ফ্রান্সের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি একটি স্মার্ট এয়ার-টু-সারফেস ক্ষেপণাস্ত্র। ১৯৯৭ সাল থেকে এটি তৈরি করছে সাফরান। বিশেষভাবে রাফাল যুদ্ধবিমানে ব্যবহারের জন্য এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা হয়।চলতি ফেব্রুয়ারির শুরুতে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ফ্রান্সের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছে ভারত। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ হওয়ার আগেই ১৮টি রাফাল তৈরি অবস্থায় পাবে ভারত। বাকি বিমানগুলো ভারতেই উৎপাদিত হবে এবং তাতে ভারতীয় প্রযুক্তির ব্যবহার থাকবে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে হ্যামার মিসাইলের গণ-উৎপাদন শুরু হলে দক্ষিণ এশিয়ার আকাশসীমায় ভারতের আধিপত্য আরও সুসংহত হবে। বিশেষ করে পাকিস্তান ও চীন সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শত্রুর লক্ষ্যবস্তু গুঁড়িয়ে দিতে এই মিসাইল বায়ুসেনার প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠবে।
রাফাল কেনার পর থেকেই ফ্রান্সের সাথে ভারতের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। হ্যামার মিসাইলের এই যৌথ উৎপাদন প্রকল্প ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পকে বিশ্বের অন্যতম ‘এক্সপোর্ট হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।