প্রকাশিত:
গতকাল

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অবৈধভাবে বসবাসরত বিদেশিদের ধরতে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (JIM)। ‘অপারেশন কুটিপ’ (Operation Kutip) নামক এই অভিযানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অন্তত ১৫০ জন অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ভোরে পরিচালিত এসব অভিযানে নগরীর চৌকিট ও জালান ক্লাং লামা এলাকায় অবৈধ বসবাস ও কর্মসংস্থানের বিস্তৃত চিত্র উঠে এসেছে।
অভিযান চলাকালে গ্রেপ্তার এড়াতে অনেক অভিবাসী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। ইমিগ্রেশন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অনেক বাংলাদেশি ও বিদেশি নাগরিক অ্যাপার্টমেন্টের ছাদে, সিলিংয়ের ভেতর এবং বড় পানির ট্যাঙ্কের মধ্যে লুকিয়ে পড়েন।
আটকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, মিয়ানমার এবং ভারতের নাগরিক রয়েছেন। আটকদের বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইনের ৬(১)(সি) ধারা (বৈধ পাসপোর্ট বা পারমিট না থাকা) এবং ১৫(১)(সি) ধারা (ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর অবস্থান করা)-এর অধীনে মামলা করা হয়েছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চৌকিট এলাকার একটি পুরোনো অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালিয়ে ৭৯ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ২৩ জন নারী। ইমিগ্রেশনের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া এই অভিযান দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ফল। সংশ্লিষ্ট এলাকাটি আগে থেকেই অবৈধ অভিবাসীদের একটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত ছিল।
আটক ব্যক্তিদের বয়স ১৭ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। তাদের বিরুদ্ধে বৈধ পাসপোর্ট ও কাজের অনুমতি না থাকা এবং নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থানের অভিযোগ আনা হয়েছে। আটক হওয়াদের মধ্যে ৩৯ জন ইন্দোনেশিয়া, ২৫ জন বাংলাদেশ, ১০ জন নেপাল, দুজন ভারত, দুজন পাকিস্তান এবং একজন মিয়ানমারের নাগরিক।
আটককৃতদের পরবর্তী তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের জন্য বুকিত জলিল ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।
মালয়েশিয়ায় নতুন করে ধরপাকড় শুরু হওয়ায় সাধারণ প্রবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যারা বৈধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় আছেন বা পাসপোর্টের অপেক্ষায় আছেন, তারা ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রবাসী কর্মীদের সবসময় বৈধ কাগজপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।