প্রকাশিত:
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
.jpg&w=3840&q=75)
দীর্ঘ ৩৬ বছরের শাসনামলে এর আগে বহুবার অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও বিদেশি চাপ সামলেছেন। কিন্তু এবার যেন সব সমীকরণ বদলে গেছে। একদিকে মার্কিন বিমান হামলার হুমকি, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের মিত্রদের পতন; সব মিলিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এখন তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সংকটের মুখোমুখি। মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সমরাস্ত্র মোতায়েন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আছে রণতরীর বহরও।
গত এক বছরে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি মসৃণ ক্ষমতার রূপান্তর নিশ্চিত করা তেহরানের জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিশেষ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির আকস্মিক মৃত্যুর পর খামেনি তার উত্তরাধিকারী নির্বাচনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেন।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর। তবে গত কয়েক মাস ধরে খামেনির তত্ত্বাবধানে একটি অতি-গোপনীয় কমিটি কাজ করছিল। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী:
মনোনীত ব্যক্তির নাম একটি সিলমোহরকৃত খামে রাখা হয়েছে, যা কেবল সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতিতে বা বিশেষ পরিস্থিতিতে খোলা হবে।
উত্তরসূরি নির্বাচনে ধর্মীয় পাণ্ডিত্য (ইজতিহাদ), রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) সাথে গভীর সুসম্পর্ককে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মুখে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিজের সম্ভাব্য অপসারণ বা নিহতের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় ঘনিষ্ঠ সহযোগী আলি লারিজানিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগের মাধ্যমে খামেনি ভবিষ্যতে ইসরায়েলি বা মার্কিন হামলায় লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
বিশ্লেষকরা বেশ কয়েকজনের নাম নিয়ে আলোচনা করছেন, যাদের মধ্যে অন্যতম:
১. মোতজবা খামেনি: খামেনির মেজ ছেলে, যিনি নেপথ্যে থেকে দীর্ঘকাল ধরে ইরানের গোয়েন্দা ও সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছেন।
২. আলী রেজা আরাফি: একজন প্রভাবশালী ধর্মীয় আলেম এবং অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস-এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
খামেনির এই ‘মাস্টারপ্ল্যান’ বাস্তবায়নের খবরে নড়েচড়ে বসেছে পশ্চিমাবিশ্ব। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানের এই ক্ষমতার পালাবদল গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, খামেনি এমন একজনকে বেছে নিয়েছেন যিনি ইরানের বর্তমান কট্টরপন্থী পররাষ্ট্রনীতি এবং ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ (Axis of Resistance) নীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, খামেনি সামরিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর জন্য একাধিক স্তরের উত্তরসূরি নির্ধারণ করেছেন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে বা তিনি নিহত হলে যাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যাঘাত না ঘটে, সেজন্য একটি ঘনিষ্ঠ অভ্যন্তরীণ চক্রকে ক্ষমতা অর্পণ করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও লারিজানিকে সর্বোচ্চ নেতার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তবু তাকে খামেনির অন্যতম বিশ্বস্ত সংকট-পরিচালক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আয়াতুল্লাহ খামেনি তার উত্তরসূরি নিয়োগের মাধ্যমে এই বার্তাই দিলেন যে, তার অনুপস্থিতিতেও ইরান কোনোভাবেই বিশৃঙ্খলা বা শক্তির শূন্যতায় পড়বে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামোতে এখন নতুন করে সংহতি ফিরবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।