প্রকাশিত:
২ ঘন্টা আগে

হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে একসঙ্গে উদ্বেগ ও স্বস্তির অনুভূতি দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রে থাকা দ্বীপটি নিয়ে বুধবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের পর ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন আর্কটিক এই ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ‘মৌলিক মতপার্থক্যের’ কথা জানান। অন্যদিকে ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন ‘ শেষ পর্যন্ত কিছু একটা সমাধান আসবে।’
২০২৬ সালের শুরু থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে আগ্রাসী অবস্থান নিয়েছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রিনল্যান্ড যদি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে সেখানে রাশিয়া বা চীন আধিপত্য বিস্তার করতে পারে। এমনকি প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিকল্পও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে বলে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন। ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে উপহাস করে ট্রাম্প একে "দুটি কুকুর চালিত স্লেজ-গাড়ি"র সাথে তুলনা করেছেন, যা গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করতে সক্ষম নয় বলে তিনি দাবি করেন।
ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় সরকার। ডেনমার্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ট্রোয়েলস লুন্ড পলসেন ঘোষণা করেছেন যে, তারা গ্রিনল্যান্ডে স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছেন।
ডেনমার্কের সংবাদমাধ্যম ডিআর-এর বরাতে আরও জানা গেছে, সেনাবাহিনীর অগ্রবর্তী কমান্ডের এই ইউনিটগুলোর মূল দায়িত্ব হবে গ্রিনল্যান্ডে আরও বেশি সংখ্যক সেনা উপস্থিতির জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনা তৈরি করা। ডেনমার্কের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল এনহেডস্লিস্টেন পার্টি সরকারের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।
এনহেডস্লিস্টেন পার্টির এক মুখপাত্র এ প্রসঙ্গে ডি আর-কে বলেন, আমরা গত সপ্তাহে সরকারকে এমন একটি অনুরোধ করেছিলাম। এটা খুবই সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং আমরা সংবাদ পেয়েছি যে ইউরোপের অন্যান্য দেশও গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠাচ্ছে। গ্রিনল্যান্ডে যদি কোনো বড় শক্তি হামলা করতে চায়, সেক্ষেত্রে এটা সেই বড় শক্তির উদ্দেশে পাঠানো স্পষ্ট সতর্কতা সঙ্কেত।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন স্পষ্ট জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। তবে দ্বীপটির বাসিন্দারা এক অদ্ভুত সংকটে পড়েছেন। একদিকে ডেনমার্কের সাথে তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অর্থনৈতিক বিনিয়োগের হাতছানি। তবে সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৮৫ শতাংশ গ্রিনল্যান্ডবাসী যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিপক্ষে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের আয়তন ২১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা মাত্র ৫৬ হাজার ৫৮৩ জন। এই জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশই ইনুইট জাতিগোষ্ঠীভুক্ত। গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান উত্তর আমেরিকা অঞ্চলে হলেও এই দ্বীপটি ডেনমার্কের অধীন একটি স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রদেশ। এ দ্বীপের বাসিন্দারাও ডেনমার্ক এবং ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নাগরিক।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি জোরপূর্বক গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা করে, তবে তা ন্যাটোর (NATO) ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ফাটল তৈরি করবে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এই পরিস্থিতিকে ‘একটি চূড়ান্ত মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, মিত্র দেশের ওপর এমন আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইন ও জোটের মূল ভিত্তিকে ধ্বংস করে দেবে।