প্রকাশিত:
২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা সাজাতে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর ইলাতের ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত আকাবা উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানকে চাপে ফেলার অংশ হিসেবেই এই জাহাজ মোতায়েন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম।
গাজা ও লেবানন সীমান্তে চলমান সংঘাতের মধ্যেই এই রণতরীর উপস্থিতি পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে ইরান ও তার মিত্রদের প্রতি সরাসরি 'রণহুঙ্কার' হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
শুক্রবার ইসরায়েলের ইয়নেট নিউজ জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় মার্কিন নৌবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ বন্দরে বন্দরে নোঙর করেছে।সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) অধীনে থাকা অত্যাধুনিক মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং লজিস্টিক সাপোর্ট জাহাজগুলো ইসরায়েলের হাইফা বন্দরে অবস্থান নিয়েছে। এই রণতরীগুলো অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থায় সজ্জিত, যা ইসরায়েলি আকাশসীমাকে এক অভেদ্য দুর্গে পরিণত করতে সক্ষম।
মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে রয়েছে ছয়টি ডেস্ট্রয়ার, একটি বিমানবাহী রণতরী এবং তিনটি যুদ্ধজাহাজ। তবে তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির কড়া জবাব দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
তিনি বলেন, মার্কিনিরা বারবার যুদ্ধের হুমকি দিয়েছে। কিন্তু ইরানি জাতি এসব হুমকিতে ভয় পায় না। আমরা আগ্রাসন শুরু করি না, তবে কেউ আক্রমণ করলে শক্ত জবাব দেওয়া হবে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের এই পদক্ষেপের পেছনে মূলত তিনটি প্রধান ইঙ্গিত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে: ইরান বা তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো যদি ইসরায়েলের ওপর কোনো বড় ধরনের হামলা চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র যে চুপ করে বসে থাকবে না—এই উপস্থিতি তারই প্রমাণ। এটি মূলত একটি 'প্রতিরোধমূলক' (Deterrence) কৌশল।ইসরায়েলের 'অ্যারো' বা 'ডেভিডস স্লিং' প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাথে সমন্বয় করে মার্কিন জাহাজগুলো ব্যালিস্টিক মিসাইল শনাক্ত ও ধ্বংস করার কাজ করবে। যুদ্ধ যদি আঞ্চলিক রূপ নেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত কয়েক হাজার মার্কিন নাগরিককে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার (Evacuation) জন্য এই জাহাজগুলোকে ব্যবহার করা হতে পারে।
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, "বিদেশি শক্তির উপস্থিতি এই অঞ্চলে শান্তি আনার বদলে অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে দেবে।" অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সহযোগিতাকে 'অন্ধকার সময়ে বন্ধুত্বের নিদর্শন' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
গতকাল রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ করছে। তবে তেহরানের এই হুঁশিয়ারির পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলি বন্দরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ কেবল একটি সামরিক সমাবেশ নয়, এটি একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক জুয়া। যদি কূটনীতি ব্যর্থ হয়, তবে এই রণতরীগুলোই হতে পারে আসন্ন কোনো বড় যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে হোয়াইট হাউসের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।