প্রকাশিত:
২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

দীর্ঘ কয়েক বছরের চরম উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির পর এবার ইরানের সাথে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সাথে একটি ‘দ্রুত এবং বড়’ চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে তিনি নিজের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ট্রাম্পের এই সুরবদলকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে অনেকেই মনে করছেন মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বদলে এবার কূটনীতির পথ প্রশস্ত হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল রোববার বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সতর্ক করে দেয়ার পরও তিনি তেহরানের সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আশাবাদী।
এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানকে একটি শক্তিশালী এবং সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চান, তবে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, "আমি মনে করি ইরান একটি চুক্তি করতে চায়। তাদের অর্থনীতি চরম চাপের মধ্যে আছে এবং তারা একটি সমাধানে আসতে আগ্রহী। আমরা খুব দ্রুতই একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারি যদি তারা আন্তরিক হয়।"
গত মাসে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ইরানি কর্তৃপক্ষের দমন-পীড়নের পর ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিমানবাহী রণতরী বহর পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গতকাল রোববার সাম্প্রতিক বিক্ষোভগুলোকে একটি ‘অভ্যুত্থান’-এর সাথে তুলনা করেন এবং সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের হামলা হলে, তা ব্যাপক সংঘাতের সূচনা করবে।
ইরানে আকাশচুম্বী জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতি অসন্তোষ থেকে সূচনা হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত একটি ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।এই বিক্ষোভকে দেশটির নেতারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উসকানিতে সৃষ্ট ‘দাঙ্গা’ বলে অভিহিত করেছেন।
ট্রাম্পের এই প্রস্তাবের বিপরীতে তেহরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সবুজ সংকেত দেয়নি। তবে ইরান সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় এবং পূর্ববর্তী চুক্তিগুলোর প্রতি সম্মান দেখায়, তবে তারা আলোচনার টেবিল ফিরতে রাজি হতে পারে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব বরাবরই বলে আসছেন, তারা সম্মানজনক ও সমতার ভিত্তিতে যেকোনো আলোচনায় বিশ্বাসী।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ‘আশাবাদ’ কেবল কথার কথা নাকি বাস্তবেই কোনো গোপন কূটনীতি কাজ করছে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে যুদ্ধের দামামার মাঝে এই ধরনের রাজনৈতিক নমনীয়তা বিশ্ববাসীর জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর। যদি সত্যিই তেহরান ও ওয়াশিংটন একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে, তবে তা হবে বর্তমান দশকের অন্যতম বড় ভূ-রাজনৈতিক বিজয়।